৫৪ বছর পর ফেনী-৩ আসনের নেতৃত্বে দাগনভূঞা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪৮ পিএম

৫৪ বছর পর দাগনভূঞার উপজেলা পেল ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনের নেতৃত্ব। এ নেতৃত্ব পাকাপোক্ত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র। দীর্ঘদিন পর আসনটির নেতৃত্ব হারানোর শঙ্কার মধ্যে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি হতাশ সোনাগাজীবাসী। সংসদীয় আসনটির ভোটের লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দুই দল থেকে ভোটের লড়াইয়ে সমর্থন পাওয়া দুইজনই দাগভূঞা উপজেলার বাসিন্দা।

তারা হলেন বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও জামায়াতে ইসলামীর ড. ফখরুদ্দিন মানিক।

সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে যে কোনো একজন জয়ী হবেন। তবে পুর্ববর্তী সংসদগুলো নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব আমলে নিয়ে জনপ্রিয়তা বিবেচনা করলে বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে শতভাগ।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ সংসদীয় আসনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এবিএম তালেব আলী। হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের সময় ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মজিবুল হক চৌধুরী, ৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মাহবুবুল আলম তারা, ১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মো. মোশারফ হোসেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যা,২০১৮ ও ২৪ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হওয়া একজন বাদে সবাই ছিলেন সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা। এ সুবাধে আসনটির নেতৃত্বের রাজত্ব করেছেন সোনাগাজী উপজেলা।

গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ফখরুদ্দিন মানিককে দলীয় সমর্থন দিয়ে  জামায়াতে ইসলামী এ আসনটিতে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে বিএনপি সারাদেশে দলটির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। অনেক প্রার্থী আলোচনায় থাকলেও ফেনী-৩ আসনে দলটির সমর্থন পান বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।তার নাম ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের যেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে,তেমনি নেমে আসে হতাশা। সামাজিক মাধ্যমে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে পোস্ট দিয়ে দলটির বিপুল সমর্থককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সোনাগাজী পৌরসভা এলাকায় মিছিল করে শোডাউনের মাধ্যমে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রতি সমর্থন জানান।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দলীয় মনোনয়ে সমর্থন লাভের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা এক বাক্য সন্তুষ্টি জানালেও সংসদীয় আসনের নেতৃত্ব দাগনভুঞা উপজেলার হাতে চলে যাওয়াতে কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করেন সোনাগাজীরা স্থানীয়রা।

সোনাগাজীর বাসিন্দা মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমটির সদস্য দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন,আসনটিতে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছে প্রয়াত এমপি মোশারফ হোসেন। উনার মৃত্যুর পর সোনাগাজীতে হেভিওয়েট প্রার্থীর অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের দল বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তিনি দাগনভূঞার বাসিন্দা হলেও তিনি দুই উপজেলার মানুষকে সমানভাবে মুল্যায়ন করেন। তিনি নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার মানুষ একইভাবে মুল্যায়িত হবে। দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সোনাগাজীবাসীর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন ভাবলু বলেন, আমাদের প্রার্থী দাগনভূঞা উপজেলার বাসিন্দা হলেও এতে আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তিনি পুরো সংসদীয় আসনের মানুষের আপনজন। দল উনাকে মনোনয়ন দেওয়াতে আমরা সোনাগাজী বিএনপি পরিবার উচ্ছ্বাসিত।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভুঞা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের পরিবার বিগত ২০১৮ সালের দলের দুঃসময়ে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন। আমাদের প্রিয় নেতার ভাই আকবর হোসেন। সেই নির্বাচনে আকবর ভাইয়ের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করেছেন।সেই আঘাতের যন্ত্রণা নিয়ে রাজনীতির মাঠে এখনও রয়েছেন। এমনকি ২৮ অক্টোবরের পর দলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজপথ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আওয়ামী পুলিশ। কারাগারে আটক অবস্থায় তার বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী সন্তানদের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা। তার বাড়ি-গাড়ি আগুন লাগিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

আমরা সোনাগাজীবাসী মনে করি এই পরিবারের ওপর আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে এই নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের আস্থার মানুষ কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ভাইকে ধানের শীষ মার্কায় ভোটের মধ্যে দিয়ে জয়যুক্ত করে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাবো। তার সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ভাইকে ফেনীর মানুষ বুক ভরা আশা নিয়ে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

এদিকে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দলীয় মনোনয়নয় পাওয়ার পর সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির কমিটিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ অংশটির নেতৃত্বে থাকা নেতারা কোনো রকম মন্তব্য না করে চুপচাপ রয়েছে। তাদের সমর্থকরা হতাশা ব্যক্ত করলেও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে কথা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও সমর্থকের সঙ্গে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দিচ্ছে না ইউনুস সরকার। তাই এ নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো উচ্ছ্বাস নেই। এছাড়া সংসদীয় আসনের নেতৃত্ব দাগনভূঞাতে চলে যাওয়াতে আমরা হতাশ হয়েছি। সংসদীয় এলাকায় ৪০ শতাংশ ভোটারের দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে সাধারণ জনগনের উচ্ছ্বাসের চেয়ে হতাশাই বেশি থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত