শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি অফিসে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির তালিকা নিয়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে আকস্মিক হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে, যেখানে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী আহত হন। প্রণোদনা সুবিধাভোগীদের তালিকায় ছাত্রদল নেতার পছন্দের নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নকলা উপজেলায় কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ মিলে মানববন্ধন করে।
উক্ত মানববন্ধনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কর্মস্থল বা রাস্তায় কোথাও নিরাপদ নই। দলীয়ভাবে ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু এখনো দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি হয়নি। যতক্ষণ না দুষ্কৃতিকারীর শাস্তি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে থাকবো।
কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় বুধবার মামলা করা হলেও এখনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাসহ অফিসিয়াল নিরাপত্তা চেয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অফিসারস ক্লাব নকলা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, তালিকায় ইচ্ছামতো নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। কৃষি কর্মকর্তা রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি দপ্তরে ঢুকে হামলা ও কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
নকলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রাহাত হাসানসহ দুজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।
উক্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর জেলা শাখার অধীনস্থ নকলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাহাত হাসান কাইয়ুমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
শ্রীপুরে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুলসহ গ্রেপ্তার ৭
দাবি না মানলে এনটিআরসিএ অফিস শাটডাউন করার হুমকি!