নোয়াখালীর নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে আগুন লাগানোর চিহ্ন নেই ঘরে। দেওয়া হয় ঘর পোড়ানোর মিথ্যা মামলা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অন্য জায়গায় আগুন লাগানোর ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখিয়ে করা হয় মিথ্যা মামলা। তাতে আসামি করা হয় জমি নিয়ে বিরোধ থাকা প্রতিপক্ষকে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে সত্য বলে প্রতিবেদন দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা। এতে মিথ্যা মামলায় বিপদে পড়ে ব্যবসায়ীর পরিবার। এদিকে মিথ্যা মামলা থেকে প্রতিবেশীকে বাঁচাতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে।
জানা যায়, গত ১১ আগস্ট নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ঘর পোড়ানোর অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয় হাতিয়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজিবুল হকের স্ত্রী শিরীন আকতার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিনসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে। ইতোমধ্যে কর্মকর্তা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন দেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী। তারা মানববন্ধন করে এই ঘটনার পুনরায় তদন্ত ও মিথ্যা মামলা থেকে ব্যবসায়ী বেলালসহ আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
শনিবার বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে নিঝুমদ্বীপের হরিণ বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা। তারা বলেন, বাজারের পাশে বাদির বাড়ি। বাজার থেকে তার ঘরটি দেখা যায়। এই ঘরে আগুন দেওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। ব্যবসায়ী বেলালের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ। এজন্য অন্য জায়গার আগুনোর চিহ্ন দেখিয়ে দেওয়া হয় এই মামলা। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেন এলাকায় না এসে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। মিথ্যা এই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী শিরিন আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে তাদের ঘরের দক্ষিণ পাশে রান্না ঘরের বেড়ায় আগুন লাগে। পরে প্রতিবেশীরা এসে তা নিভিয়ে ফেলেন। কেউ আগুন লাগিয়েছে কিনা তা তিনি দেখেননি। পরে আগুনে ঘর পোড়ানোর মামলা কেন দিয়েছেন এই প্রশ্নে উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাকী আকতার জানান, ঘর পোড়ানোর মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে করা হয়েছে। এখানে আগুনে পোড়ানোর কোনও ঘটনা ঘটেনি। ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নুরবানু থেকে এই জমিটি ১৪ লাখ টাকায় কেনেন। পরে নুরবানুর ছেলে এসে আপত্তি জানালে তাকেও দেওয়া হয় ৮ লাখ টাকা। এরপরও তিনি বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিনকে হয়রানি করছেন। এ পর্যন্ত চারটি মামলা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তিনি তার স্ত্রীকে দিয়ে ঘরপোড়ানোর মামলাটি দেন। তাদের এই বিরোধ নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে শালিশ বৈঠক হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কাজী ইমরান হোসেন বলেন, মামলার বাদী ঘরে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি এনে দিয়েছেন। তাতে আমার কাছে ঘঠনাটি সত্য বলে মনে হয়েছে। সে মোতাবেক আমি প্রতিবেদন দিয়েছি। আমার সঙ্গে আসামিরা দেখা করেছেন। তারা ঘটনাটি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন। আমি তাদের পুনঃতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করতে বলেছি।
