পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেবে আগামী সরকার

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১২ এএম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণের জন্য করা পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় ষষ্ঠ কিস্তির ঋণছাড়ের বিষয়েও নতুন সরকারের সঙ্গে কথা বলে আইএমএফ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটা পে-কমিশনের ব্যাপার আছে। সেটা আমরা এখন কিছু বলতে পারি না। ওটা দেখা যাক, কতদূর যায়। সেটা আগামী সরকারের...। আগামী সরকার হয়তো সেটা ইয়েস করতে পারে। যেহেতু আমরা ইনিশিয়েট করে ফেলেছি।’

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য পে-কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে এই কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। কমিশনকে ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এতে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এই  প্রেক্ষাপটেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে নতুন পে-কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বেতন হার কেমন হবে তার বেশ কিছু প্রস্তাবনাও নিয়েছে। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুসারে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে বলেও সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, চালের দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যাতায়াত ব্যয় ও বাড়িভাড়া বেড়েছে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘ইউরিয়া ও টিএসপি সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেদ্ধ চাল আমদানির ব্যবস্থাও চলছে। সার্বিকভাবে খাদ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই মুহূর্তে আইএমএফের ঋণের কিস্তির দরকার নেই : অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড়ের বিষয়টি আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন বাংলাদেশে এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আইএমএফকে আমরা বলেছি, এই মুহূর্তে আমাদের ঋণের কিস্তির দরকার নেই। তারা আগে পর্যালোচনা করুক। নির্বাচিত সরকার কতটা ঋণ চায়, সেটা নিয়ে ফেব্রুয়ারির মিশন আলোচনা করবে, এরপর না হয় ঋণছাড় হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ জানিয়েছে, আমরা ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। তাদের কিছু পরামর্শও আছে, যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী সরকারকে আইএমএফের ঋণ, সংস্কারের শর্তসহ সব বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি করে দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমার চূড়ান্ত কথা হবে ১৫ তারিখে। আইএমএফের সঙ্গে আমার জুমে কথা হয়েছে। ওরা বলেছে তোমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক দিকটায় আমরা অত্যন্ত হ্যাপি। ঠিক আছে যা যা করার তোমরা চেষ্টা করছ, করেছ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত