সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে নন-এমপিও শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২২ এএম

পূর্বঘোষিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের ওপর লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। সে সময় জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন চার শিক্ষক। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গানের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।

১৮ দিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি।বর্তমানে আমরা বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষকদের এক দফা হলো সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।’

সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল দুপুর আড়াইটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘেরাও কর্মসূচি পূর্ণভাবে পালন করছিলাম। কিন্তু বিনা উসকানিতে পুলিশ শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে লাঠিপেটা শুরু করে। এতে আমি নিজেও আহত হই। সে সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত হয়েছেন। এমন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ শিক্ষকদের এমপিও প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (প্যাট্রল) বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘নন-এমপিও শিক্ষকরা দুপুরের দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গেলে তাদের নেতারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সাধারণ শিক্ষকরা তা অমান্য করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে চান। সে সময় পুলিশ তাদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।’ তবে লাঠিপেটার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ঢামেক প্রতিনিধি জানান, পুলিশের জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় আহত হয়েছেন চার শিক্ষক। আহতরা হলেন আসাদুজ্জামান (৪৭), ইকবাল হাসান (৪০), মোস্তাকিম (৪৫) ও বাবু (৩৬)। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গানের মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এ গানের মিছিল শুরু করে। গানের মিছিলটি সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা ভবনের সামনে এলে পুলিশ বাধা দেয়।

উদীচীর শিল্পীরা বলেন, তারা গানের মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার গেট পর্যন্ত যাবেন। প্রধান উপদেষ্টাকে গান শোনাবেন। কিছুক্ষণ তর্কবিতর্কের পর পুলিশ গানের মিছিল ছেড়ে দেয়, দুই মিনিট পর মিছিলটি পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় অতিক্রম করার পর আবার সেটিকে থামিয়ে দেয় পুলিশ। তারপর আর মিছিলটিকে সামনে যেতে দেয়নি পুলিশ।

সে সময় সড়কে অবস্থান করে গান পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক রহমান মুফিজ বলেন, ‘আমরা গানের মিছিল নিয়ে যমুনার অভিমুখে যাচ্ছিলাম। কিন্তু শেখ হাসিনা যেভাবে যেকোনো শান্তিপূর্ণ মিছিল পুলিশ দিয়ে দমনের চেষ্টা করত, বর্তমান ইউনূস সরকারও একইভাবে পুলিশ দিয়ে বাধা দিচ্ছে। আমরা জানি না, এ সরকার কেন গানকে ভয় পায়।’

গানের মিছিলে শিল্পীদের হাতে ‘শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকীকরণ রুখে দাঁড়াও’, ‘আমরা চাই, হাসি-গানে মুখরিত বাংলাদেশ’, ‘আর কিছু চায় না; মনে গান ছাড়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত