ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির করার পেছনে মিল মালিকরা অথবা ডিও ব্যবসায়ীরা অথবা উভয়ই জড়িত থাকতে পারেন বলেন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্য তেলের ডিও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এবং ভোজ্য তেল ডিও ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ছোট্ট একটি দোকানদার ৫০০ বোতল তেল খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে বাজার অস্থির করবে এটা আমার মনে হয় সঠিক না। টেলিভিশনে তেল উদ্ধারের নাটক প্রচার করা হয়। সারা দেশে মানুষ বাহবা দেয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। দেখানো হলো মুদি দোকানদারই সব কারসাজি করেছে আর কারও দায় নেই। আমরা প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করতে চাই ভোজ্য তেলের বাজারে কাউকে নৈরাজ্য করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থে কাজ করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য। ব্যবসা-বাণিজ্য সংকীর্ণ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজীকরণ করাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ। সেটা বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টার ঘাটতি নেই। ভোজ্য তেলের ডিও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ভোজ্য তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা চাই।’
দিন শেষে সবাই ভোক্তা উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি এবং আমার মন্ত্রণালয় ভোক্তাদের স্বার্থে কাজ করব। দেশের মানুষের যেটা প্রয়োজন সেটা করব। সে কাজে আপনারা (ডিও ব্যবসায়ীরা) সহযোগিতা করবেন। এখানে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটা কার পক্ষে আর কার বিপক্ষে যাবে তা দেখার সুযোগ নেই।
সভায় ভোজ্য তেলের ডিও ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের কাছ থেকে সময়মতো পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর জন্য আবারও চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করতে চায় তারা। দাম বাড়ানোর জন্য এর আগে আরও দুবার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। একই ধরনের প্রস্তাবনার বিপরীতে মাসখানেক আগে তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়। কারণ সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ঘটনা গত মাসের। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে একই প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ব্যবসায়ীরা মাসখানেক আগে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন। এবারও ঠিক সেই প্রস্তাবনাটিই পুনরায় দিয়েছেন। প্রস্তাবনা নিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমন্বিত সভা করার দরকার হলে সেটাও করা হবে।
