মানুষের জীবনে স্বপ্ন এক রহস্যময় বাস্তবতা। কখনো তা হয়ে ওঠে আনন্দের বার্তা, কখনো আবার বিভ্রান্তি ও ভয় সৃষ্টি করে। কিন্তু সব স্বপ্ন এক রকম নয়। হাদিসে এর একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ে মুমিনদের অধিকাংশ স্বপ্নই সত্য হবে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। যে ব্যক্তি অধিক সত্যবাদী তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। মুসলিমের স্বপ্ন হলো নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।’ (তিরমিজি)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের স্বপ্নের সঙ্গে নবুয়তের একটি ক্ষীণ সম্পর্ক রয়েছে। কেননা নবুয়তের মাধ্যমে যেমন সত্য প্রকাশিত হয়, তেমনি মুমিনের স্বপ্নেও কখনো কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত ও বার্তা প্রকাশ পায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, স্বপ্ন তিন প্রকার। সৎ স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ স্বরূপ। আরেক স্বপ্ন হলো শয়তানের পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য ক্লেশ স্বরূপ। অপর এক স্বপ্ন হলো মানুষ মনে মনে যা ভাবে তা স্বপ্নে দেখে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অপছন্দনীয় কিছু দেখে তবে সে যেন উঠে যায় এবং (বাম দিকে) থু থু নিক্ষেপ করে এবং মানুষকে যেন তা না বলে।
নবী করিম (সা.) স্বপ্নে পায়ের বেড়ি দেখাকে পছন্দ করেছেন, কারণ তা দ্বীনের দৃঢ়তার প্রতীক। কিন্তু গলার বেড়ি অপছন্দ করেছেন, কারণ তা দাসত্ব ও সংকোচনের প্রতীক। এই উপমা স্পষ্ট করে দেয়, মুমিনের স্বপ্ন যদি দ্বীনের প্রতি দৃঢ়তা ও সৎপথে স্থির থাকার বার্তা দেয়, তবে তা নিঃসন্দেহে কল্যাণকর। (তিরমিজি)
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার
