হুমকি-ধমকি না দিয়ে আসুন জনগণের মুখোমুখি হই

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হুমকি-ধমকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে একটি দলের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করবে, নাকি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আলুচাষিদের যে পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন, সেই অর্থ দিয়েই গণভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। অথচ গণভোটের চেয়ে আলুচাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বেশি প্রয়োজন। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে গণভোট আয়োজনের চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা বেশি জরুরি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব বাস্তব সমস্যার কথা বলার মতো দেশে কেউ নেই। দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা নীতিও তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের অংশ ছিল, গ্লোবাল ভিলেজ যুগে তথাকথিত গণভোট নিয়ে গবেষণার বদলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে টেকসই করার ওপর বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

নারী কর্মসংস্থান ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কর্মঘণ্টা কমানোর নামে নারীদের চাকরিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না তো? পোশাক কারখানায় যদি নারীরা ৮ ঘণ্টার বদলে ৫ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে বাকি সময়ের মজুরি কে দেবে? এতে কি তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে না? গণভোটের চেয়ে নারীদের মধ্যে চাকরি সংকুচিত হওয়ার আতঙ্ক দূর করা বেশি প্রয়োজন। একজন কর্মহীনের চাকরি সৃষ্টি করাই আজ সবচেয়ে জরুরি।’ তারেক রহমানের দাবি, দেশে এখন গণভোট নয়, প্রয়োজন কৃষক, শ্রমিক ও কর্মহীন মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান।

তারেক রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।’

তিনি বলেন, ‘বীর জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে এবং কোনো একটি গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য মানুষ রাজপথে জীবন দেয়নি। তিনি সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করছে বলে সমালোচনা করেন।’

এ সময় অন্তর্র্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাসের পর মাস রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা ছিল না।’

 দেশের সাধারণ জনগণ ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে থাকা কোনো দল যদি নিজের অবস্থান রক্ষা করতে ফ্যাসিবাদের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে, তা সতর্কবার্তার বিষয়। গণভোটের আড়ালে অপশক্তিকে রাষ্ট্র রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে জনগণ ও সিভিল সোসাইটিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারে জনগণ সার্বিক সফলতা আশা করে না, বরং মূল দৃষ্টি দেশের জাতীয় নির্বাচনে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দৃঢ় করার সুযোগ, যা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থান্বেষণ দ্বারা ক্ষুণœ হওয়া চলবে না।’

দেশের রাজনীতিতে ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ তিনি রাজপথের আন্দোলনে থাকা নেতাদের অনুরোধ করেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করা থেকে বিরত থাকুন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় অটল থাকুন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য  দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর)  চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত