রাজধানীতে হাইকোর্টের পাশে পানির পাম্পে কাছ থেকে ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির ২৬ টুকরো খণ্ড-বিখ- লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাছের নিচে দুটি ড্রামে এই খণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও রাত সোয়া ৭টায় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পরিচিত শনাক্ত করে। জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম মো. আশরাফুল হক। বয়স ৪২ বছর। তার বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুরে। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ।
পুলিশ বলছে, দুজন ব্যক্তি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ভ্যানে করে ড্রাম দুটি রেখে যায়। সন্ধ্যায় দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তখন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ড্রাম খুলে চালের মধ্য থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ বের করে।
খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মুনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকল সন্ধ্যায় হাইকোর্টসংলগ্ন রাস্তা থেকে নীল রঙের দুটি ড্রাম দেখে লোকজন থানায় খবর দেয়। পরে ড্রাম খুলে খণ্ডিত মানুষের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুটি নীল ড্রামের মধ্যে চাল ছিল এবং কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল। মরদেহ হাত, পা ও মাথাসহ ২৬ টুকরো ছিল।
তিনি আরও বলেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কে বা কারা লাশটা ফেলে গেছে সেটা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে মরদেহ বের করা হয়। ড্রামের মধ্যে চাল ছিল এবং কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহের খণ্ডিত অংশ।
শাহাদাত হোসেন নামের একজন ড্রাম দুটি খুলে মরদেহ বের করেন। তিনি বলেন, পুলিশ এসে ড্রাম খুলতে বললে আমি ড্রাম খুলি। এরপর দুটি ড্রাম খুলে একজনের একাধিক খণ্ডে খণ্ডিত মরদেহ বের করি। পুলিশের ধারণা, দু-এক দিন আগে হত্যার পর হত্যাকারীরা এখানে ড্রামে করে মরদেহ ফেলে গেছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পরিত্যক্ত নীল রঙের দুটি ড্রাম দেখে সন্দেহ হয়। পরে খুলে দেখা যায়, একটিতে চাল অন্যটিতে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ। লাশের মাথার অংশটুকু স্পষ্ট বোঝা যায়। মুখে দাড়িও রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
