দেশকে এগিয়ে নিতে উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২০ এএম

দেশ রূপান্তর : আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষত্ব কী? এমন কী কী বৈশিষ্ট্য আছে যে কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : বিশ্বায়নের যুগে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে গত তিন দশক ধরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে চলছে। বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষায় অন্যতম অংশীদার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে বর্তমানে ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। আমি যদি আমার বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কথাই বলি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যেই ‘উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ হিসেবে সগৌরবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাত্র দুই যুগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ড্যাফোডিল উঠে এসেছে মানসম্পন্ন সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বখ্যাত টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিং, ইউআই গিন মেট্রিক্স র‌্যাঙ্কিং-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সম্মানজনক অবস্থানে আছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণার উন্নয়নের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত গতিশীল এবং যুগোপযোগী, যা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে তোলে। আমরা শুধু একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বেই বিশ্বাসী নই, বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশেও গুরুত্ব দেই। আমরা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে বদ্ধপরিকর।

শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিস্তৃত সবুজ ক্যাম্পাস, আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ এবং অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব বিদ্যমান। এ ছাড়া নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের আগ্রহের ক্ষেত্র যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এজেন্টিক এআই, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কোর্স ও প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা অনলাইন শিক্ষা এবং হাইব্রিড মডেল কোর্সগুলোতেও গুরুত্ব দিচ্ছি, যা শিক্ষার্থীদের বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে একটি করে ল্যাপটপ প্রদান করি। এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এসব বিষয়কে বিবেচনা করেই ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ছাড়া আর কী কী বিবেচনায় নেওয়া হয়?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মেধাকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তার আচার আচরণ, ব্যবহার মানবিক মূল্যবোধ, আর্ট অব লিভিং এবং সামগ্রিক আউটলুক ছাত্র সুলভ কি না এসব বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়। কারণ ‘Student should be meritorious, must be gentle, not to be stupid’

দেশ রূপান্তর : শিক্ষক নিয়োগের সময় আপনারা কী কী বিবেচনা করে থাকেন?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা মেধা এবং প্রতিভাকে মূল্যায়ন করে থাকি। মেধার পাশাপাশি তার আচার আচরণ, ব্যবহার এবং সামগ্রিক আউটলুক শিক্ষক-সুলভ কি না এসব বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিক্ষাদানে তার উপস্থাপনা শিক্ষার্থীবান্ধব কি না তাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর বাইরে তার গবেষণা কার্যক্রমে সফলতা, প্রবন্ধ প্রকাশের সংখ্যা এবং পিএইচডি কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

দেশ রূপান্তর : এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে থাকেন? শিক্ষক কতজন আছেন? শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অনুপাত কেমন? এটা কি সন্তোষজনক মনে করেন?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২৩৯৭২ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক সংখ্যা ১২০১

(পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন ও ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিসহ)। সাতটি অনুষদ, ২৫টি বিভাগ এবং একাধিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১: ২০। যা শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মনোযোগ নিশ্চিত করে।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থী-শিক্ষক সুসম্পর্ক মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। এসব বিষয়ে মান বজায় রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজন নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং মানবিকতার অনুশীলন। সমাজ এবং দেশের চিন্তা করার জন্য প্রথমে নিজের পরিবার এবং আপন মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এখানে ‘আর্ট অব লিভিং’ কোর্স পরিচালনা করা হয়।

একমাত্র ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক এই ত্রি-মাত্রিক সম্পর্কের শক্তিশালী ও দৃঢ় বন্ধনের মাধ্যমেই উন্নত জীবন ও সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব এবং সে কারণেই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ উন্নয়নে এ ত্রি-মাত্রিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ‘পেরেন্টস ডে’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা ‘আজীবন মা-বাবার সঙ্গে থাকার এবং বয়স্কদের আধিকার ও সেবা প্রদানের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ করে এবং আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক স্বরূপ নিজ নিজ পিতা-মাতার পা ধুইয়ে দেয়, বাবা-মা ও তাদের সন্তানদের গভীর মমতায় বুকে জড়িয়ে নেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থীকে বাবা-মায়ের পদচুম্বন করতেও দেখা যায়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনে এই মেন্টরই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ভালো-মন্দ দেখভালের ক্ষেত্রে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ রূপান্তর : গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন গবেষণা তৈরি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়ার কথা? এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষক হিসেবে তৈরি হয়েছেন, এমন কয়েকজনের কথা কী বলা যায়, যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : ড. এ এফএম শাহেন শাহ ওয়ারলেস কমিউনিকেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আইসিটি বিষয়ে বিশ্বের সেরা ১% বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে ইইই ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। বর্তমানে তুরস্কের ইস্তানবুল জেলিসিম ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক এবং উইলডিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির সায়েন্টিফিক রিসার্চ প্রজেক্টস কো-অর্ডিনেশন এবং সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল অব তুরী ((TUBITAK) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশ রূপান্তর : এখানে এমন কোনো বিশেষ গবেষণা কি হয়েছে, যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এখন গবেষণাকে শুধু একাডেমিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং উদ্ভাবনের উৎস হিসেবে দেখে।

আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে  Scopus-indexed এবং Q1/Q2-ranked জার্নালে প্রকাশনা করছে।

আমরা স্থাপন করেছি  Research & Innovation Wing, AI and Data Science Lab, Cyber Security Lab, Ges Smart City Research Center যেখানে গবেষণা সরাসরি শিল্প ও সমাজে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় (যেমন AUAP, IAUP, Erasmus+) যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষাদান সহজ হয়ে থাকে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের বিষয়ে ধারণা দিতে পারেন?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ডেফোডিল স্মার্ট সিটিতে প্রায় ৩০ একর জায়গায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নাগরিক কোলাহল মুক্ত, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত, সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমিতে গড়ে উঠেছে শিক্ষাবান্ধব এ ক্যাম্পাস। সর্বাধুনিক শিক্ষা উপকরণ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক মণ্ডলী, আবাসন সুবিধা, উন্নত ল্যাবরেটরি, ইনোভেশন ল্যাব, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম, বিশাল খেলার মাঠ, যাতায়াত সুবিধা, উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট, টেনিস কোর্ট, সুইমিং পুল, বাস্কেট র্কোট, গলফ কোর্স, ওয়াইফাইসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ ক্যাম্পাস ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’ হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও গবেষণাকর্মে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরি যাতে রয়েছে দেশি-বিদেশি ২৫,০০০ রেফারেন্স বই, ৩৫,০০০ ই-বুক, ৮,৫০০ প্রোজেক্ট রিপোর্ট, ২,৮০,০০০ ই-জার্নাল, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিন, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডিসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকা। রয়েছে ফ্রি ইন্টারনেট ও অনলাইন এক্সেস সুবিধা যাতে করে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লাইব্রেরি ও অন্য বিষয় সম্পর্কে তথ্যাবলি সংগ্রহ করতে এবং নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারে। লাইব্রেরির সব কর্মকাণ্ড অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। যেকোনো শিক্ষার্থী অনলাইনের মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় বইয়ের বুকিং দিতে পারে। লাইব্রেরির সর্বাধুনিক সুবিধা সংবলিত সুবিশাল ফ্লোরসমূহে মধ্যে এক সঙ্গে প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে অধ্যয়ন করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দেওয়া চাহিদা অনুযায়ী দেশি বিদেশি রেফারেন্স বই সংরক্ষণের মাধ্যমে লাইব্রেরিকে সব সময় আপডেট রাখা হয়। এ ছাড়া অতি সম্প্রতি লাইব্রেরিতে কবি নজরুল এডুপ্লেক্স, রবীন্দ্রনাথ নলেজ পার্ক, লাইব্রেরি ক্যাফে, মাইন্ড ম্যাপিং প্লেস সংযুক্ত করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা কেমন আছে?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র ক্যাম্পাস নয় গুণগত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের থাকা, খাওয়ার পরিবেশের গুরুত্বও কম নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের আবাস সুবিধা যা বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, মানসম্পন্ন খাবার, ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বর্তমানে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের দুটিসহ মোট পাঁচটি আবাসিক হলে প্রায় ৭২০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে এ বিশ্বদ্যালয়ে।

দেশ রূপান্তর : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি ফি সীমিত আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় বাধা। তাদের জন্য এখানে কী ব্যবস্থা আছে?

অধ্যাপক ড. এম আর কবির : ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় মূলত মেধাবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ন্যূনতম রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সচেতন ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতি সেমিস্টারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ওয়েভার প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন শিক্ষা নিশ্চিত করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ২০% ওয়েভার দেওয়া হয়। তা ছাড়া করোনাকালেও শিক্ষার্থীদের আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ১০-১৫% অতিরিক্ত বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সহোদর, স্বামী-স্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, জুলাই যোদ্ধা, খেলোয়াড়, ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য চেয়ারম্যান এনডাউমেন্ট ফান্ড বৃত্তি, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী বৃত্তি ও মফিজউদ্দিন মজুমদার বৃত্তি প্রচলিত রয়েছে।

সর্বোপরি, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ‘শিক্ষার্থীবীমা’ ও ‘অভিভাবক বীমা’র ন্যায় অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।’ অভিভাবক বীমা’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত অভিভাবকদের ওই পলিসির আওতায় আনা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে কোনো অভিভাবক স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনায় মারা গেলেও অভিভাবক হারানো ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী পান পূর্ণ আর্থিক সহযোগিতা, যার মাধ্যমে চলমান থাকে তার শিক্ষাজীবন। আর ‘শিক্ষার্থীবীমা’র আওতায় কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে অভিভাবককে এককালীন অনুদান প্রদান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত