ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদারহাট ও পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার মধ্যে সংযোগকারী আয়রন সেতুটি বালুবোঝাই কার্গোর আঘাতে ৬ বছর আগেই ভেঙে গেছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি ও বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে সেতুটির সংস্কার না করায় স্থানীয়রা বিপাকে পড়ে। পরে দুই উপজেলার মানুষের চলাচলের স্বার্থে সেতুর ওপর সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে এতদিন চলাচল করছিল লোকজন। কিন্তু গত সপ্তাহে সেই সাঁকোটিও ভেঙে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।
জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সঙ্গে পাশের পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার মধ্যে বয়ে যাওয়া ভারানী খালের ওপর এ সংযোগ সেতুটি ২০০২ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্মিত হয়। খালের পূর্ব পাড়ে রাজাপুর অংশে ঐতিহ্যবাহী কাঠিপাড়ার তালুকদারহাট, একটি হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া পশ্চিম পাড়ে কাউখালী উপজেলার আইরন হাইস্কুল, আইরন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়কুল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুয়াটন কলেজ ও অল্প দূরত্বে কাউখালী ডিগ্রি কলেজসহ দুই পাড়ে প্রায় ডজনখানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় কয়েকশ শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে। তাছাড়া সেতু না থাকার কারণে সীমান্তবর্তী এ দুই উপজেলার সঙ্গে খেয়া পারাপারের মাধ্যমে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় দপ্তর তা মেরামত করেনি। এ কারণে ৬ বছর আগেই তারা চলাচলের জন্য সেতুর ওপর সাঁকো নির্মাণ করেছিল। পুরনো হওয়ায় বাঁশের খুঁটি পচে গিয়ে সাঁকোটি কয়েকদিন আগে ভেঙে গেছে।
কাঠিপাড়া আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবু জাফর বলেন, ‘৬ বছর আগে সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এলাকাবাসীর উদ্যোগে সেতুর মাঝখানের অংশে সাঁকো তৈরি করা হয়। আমাদের মাদ্রাসার ছেলেমেয়েরা সেই সাঁকোর ওপর দিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করত। এখন সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসায় আসতে পারছে না। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। এই শেষ সময় ছেলেমেয়েরা মাদ্রাসায় না আসতে পারলে ওদের অনেক ক্ষতি হবে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল তালুকদার বলেন, ‘এ সেতুটি দুই উপজেলার মানুষের একমাত্র সংযোগ স্থাপনকারী সেতু। আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে এখানে রয়েছে একমাত্র হাট। সপ্তাহে দুদিন বসা এ হাটে দুই উপজেলার মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাবেচা করেন। তাছাড়া আমাদের এ পাড়ের মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেভাবে কাউখালী উপজেলার ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে, তেমনি আমাদের এ পাড়ের অনেক ছেলেমেয়ে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে লেখাপড়া করে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে রয়েছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।’
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, এতদিন বরাদ্দের অভাবে এ সেতুটি সংস্কার করা যায়নি। আয়রন সেতুটির জন্য নতুন করে আন্ডার হান্ড্রেড মিটার প্রজেক্টে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।
