লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত চার বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবারের এ ঘটনা ঘটে।
লিবীয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর আল-খোমস থেকে যাত্রা করেছিল দুটি নৌকা। এতে প্রায় ১০০ জন অভিবাসীকে বহন করা হচ্ছিল। হঠাৎ দুটি নৌকাই ডুবে যায়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, প্রথম নৌকাটিতে বাংলাদেশ থেকে আসা ২৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় আরও কতজন যাত্রী নিহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। ওই নৌকার বেশিরভাগই সুদানের নাগরিক। আল-খুমস লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত একটি উপকূলীয় শহর।
বিবিসি লিখেছে, নৌকাগুলো উত্তর আফ্রিকা এবং ইতালির মধ্যবর্তী মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করছিল, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) মতানুসারে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অভিবাসন রুট এটি। লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট তাদের ক্রুদের জীবিতদের সাহায্য করার ছবি এবং মাটিতে পড়ে থাকা কালো বডি ব্যাগের ছবি প্রকাশ করেছে। উদ্ধারকাজে উপকূলরক্ষী বাহিনী ও আল-খুমস পোর্ট সিকিউরিটি এজেন্সি অংশ নেয়। শহরের সরকারি কৌঁসুলির নির্দেশে মৃতদেহগুলো সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার আইওএম জানিয়েছে, আল বুরি তেলক্ষেত্রের কাছে একটি রাবারের নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৪২ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মারা গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তেলক্ষেত্রটি লিবিয়ার উত্তর-উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।
আইওএমের তথ্য অনুসারে, প্রতিবছর শত শত মানুষ অনিরাপদ নৌকায় দক্ষিণ ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে মারা যায়। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লিবিয়ার উপকূলে ঘটেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মতে, এই বছর মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে ইউরোপে আসা প্রায় ৫৯ হাজার লোকের বেশিরভাগের জন্য উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া প্রধান লক্ষ্য। এ সপ্তাহের শুরুতে লিবিয়ায় একটি ছোট নৌকায় আরোহণকারী কয়েক ডজন অভিবাসী ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন এবং তারা মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সমুদ্রে নিখোঁজ থাকার পর সুদান, সোমালিয়া, ক্যামেরুন এবং নাইজেরিয়ার সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
