কোটি টাকা ব্যয় বাতিলের দাবি

নগর সমস্যা অগ্রাহ্য করে সিটি করপোরেশনের বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:২১ পিএম

বরিশাল নগরবাসীর মৌলিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন কুয়াকাটায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বায়না দলিলও সম্পন্ন হয়েছে। অথচ সিটি কর্পোরেশনের ৩৮৪ কোটি টাকা দেনা রয়েছে।

এর মধ্যে ঠিকাদাররা পাবেন ৩০০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ৬৪ কোটি, আয় ২০ কোটি এবং অবসরপ্রাপ্ত ও নিম্নবেতনভুক্ত কর্মচারীরা পাওয়ার কথা। নগরবাসীর মৌলিক সেবা যেমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিবহন, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন, মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করায় ব্যর্থ থাকার মধ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিলাসবহুল প্রকল্প গ্রহণকে গণসংহতি আন্দোলন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আশ্বিনী কুমার হল সংলগ্নে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলার জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান মিরাজ, সহ নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হোসেন মারুফ, অর্থ সম্পাদক ইয়াসমিন সুলতানা এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ‘নগর পরিবহন, বর্জ্য অপসারণ, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন, মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর। বর্জ্য অপসারণে নিযুক্ত কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই, যা তাদের ও পরিবারকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এই অবস্থায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প গ্রহণকে আমরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করি।’

তিনি আরও জানান, ‘১৬ নভেম্বর গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষে আমি হাইকোর্টে রিট আবেদন করি। ১৭ নভেম্বর আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জমি ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া আদালত আগামী ৬ মাসের জন্য এই প্রকল্প স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত