মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামরাগাঁও গ্রামে সৎ মায়ের নির্যাতনে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম মো. জুবায়ের। এ ঘটনায় পুলিশ সৎ মাসহ ৩ জনকে আটক করেছে। গত বুধবার দিনগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্যাতনের শিকার ওই শিশু মারা যান।
তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুর নানীর বাড়ির লোকজন মিছিল করে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে সৎ মা রূপা বেগমসহ ৩ জনকে পুলিশ আটক করে। নিহ শিশু জুবায়ের উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. আরিফের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ৫ বছর আগে শিশু জুবায়েরের বাবা রূপা বেগম নামে নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে ক্ষোভে তার মা লিমা আক্তার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তার মায়ের মৃত্যুর পর পরকীয়া প্রেমিকা রূপাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে জুবায়েরের বাবা। এরমধ্যে বাবা সৌদি আরব পাড়ি জমায়। তবে শিশু জুবায়ের তার মায়ের মৃত্যুর পর কিছুদিন নানী বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বাবার চাপের মুখে সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
শিশুর নানী জাহানারা বেগম বলেন, প্রায়শ: আমার নাতিকে নির্যাতন করতো ওর সৎ মা। আমরা দেখা করতে চাইলেও দিতো না। গত মঙ্গলবার পাশের বাড়ির গাছের জাম্বুরা পাড়ারকে কেন্দ্র করে গ্রামের কয়েকজন কিশোর আমার নাতিকে মারধর করে। বাড়িতে ফেরার পর সৎ মা আবারো বেধড়ক মারধর করে। এতে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। পরে অবস্থান অবনতি হলে ঢামেকে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় আমার নাতি।
এ ব্যাপারে জানতে জানতে চাইলে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, জুবায়ের নামে একটি শিশু শারীরিক নির্যাতনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুর সৎ মা রূপাসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
