'সুপার ওভারে কোনো দলই অভ্যস্ত নয়,' কাতার থেকে দেশে ফিরে বললেন আকবর

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১২ পিএম

রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পরও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক আকবর আলী নিজের সেই ভুল থ্রো নিয়েই আলোচনায় আছেন। দেশে ফেরার পরও আকবর স্বীকার করেছেন, “ওই মুহূর্তে কী হয়েছে আমি নিজেও জানি না, ওটা কেন করেছি এটার কোনো ব্যাখ্যাও নেই আমার কাছে। ওটা জাস্ট হয়ে গিয়েছে। বাট অবশ্যই যেই ভুলটা আমি করেছি ওটা মানে একদম আমি বলব যে অনূর্ধ্ব-১২-এর বাচ্চাদেরও ভুল না।”

সেমিফাইনালের শেষ বলে ভারতের দরকার ছিল চার রান। হার্শ দুবের লং অনের দিকে মারা শটটি সহজেই নিয়েছিলেন জিশান আলম। সেখান থেকে বল ফিরে আসে আকবরের হাতে। ব্যাটাররা দুই রান নেয়ার পরও রানআউটের সুযোগ ছিল। কিন্তু আকবর বল হাতে রেখেই স্টাম্প ভাঙার বদলে একটু দূর থেকে থ্রো করেন, যেখানে কোনো ফিল্ডারই ছিলেন না। সুযোগ পেয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা নেন অতিরিক্ত একটি রান, আর তাতেই ম্যাচ সুপার ওভারে চলে যায়।

পেসার রিপন মন্ডলের নৈপুণ্যে সুপার ওভারে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও সুপার ওভারে গিয়ে হারে আকবরের দল। দেশে ফেরার পর আকবর বলেন, “আসলে ওই মুহূর্তে কী হয়েছে আমি নিজেও জানি না, ওটা কেন করেছি এটার কোনো ব্যাখ্যাও নেই আমার কাছে। তো আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমি একটা ভুল করেছি এবং সরি বলেছিলাম ম্যাচ শেষে সবাইকে।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো টানা দুই ম্যাচে সুপার ওভার খেলেনি কোনো দল। আকবর বলেন, “আমার মনে হয় না যে সুপার ওভারে কোনো টিমই এরকম অভ্যস্ত। কারণ সুপার ওভার আপনার হয়ই কালেভদ্রে। বাট এটা খুবই রেয়ার কেস যে আমরা টানা দুটো ম্যাচ সুপার ওভার খেলেছি।”

ফাইনালে সুপার ওভারে এক উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জিশানের ছক্কা হাকাতে গিয়ে আউটের সেই দৃশ্য

সেদিন সুপার ওভারে ৬ রান তুলেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম বলে হাবিবুর রহমান ১ রান নেন। দ্বিতীয় বলে আবদুল গাফফার ফিরতি ক্যাচ দেন পাকিস্তানি পেসার আহমেদ দানিয়ালকে। পরের বলে ওয়াইড থেকে আসে ৫ রান। বৈধ তৃতীয় বলে জিশান আলমকে বোল্ড করে দেন দানিয়াল। অথচ বাকি ৩টি বল খেলতে পারলে ১০ রানের বেশি তোলার সম্ভাবনা থাকত বাংলাদেশের। এই টুর্নামেন্টে ইয়র্কার স্পেশালিস্ট হয়ে ওঠা রিপন মণ্ডলের বিপক্ষে ১০ থেকে ১২ রান তোলা সহজ হতো না পাকিস্তান ‘এ’ দলের। কিন্তু সংগ্রহ কম হওয়ায় পাকিস্তান ‘এ’ দলে সহজেই ম্যাচটি জিতে নেয়।

আকবর আলী নিজেদের রক্ষা করে বলেন, 'সুপার ওভারে হাই রিস্ক শট খেলতে হয়, এবং অনেক সময় শট ক্লিক করে, অনেক সময় ক্লিক করে না। আকবর বলেন, “সুপার ওভারে আপনি যখন যাবেন আপনাকে শটস খেলতেই হবে। সেটা ইন্ডিয়ানরা বলুন, আমরা বলুন, পাকিস্তান বলুন, যারাই যাবে শটস খেলতেই হবে। এখন ওখানে আপনাকে হাই রিস্ক শটই খেলতে হয় স্বাভাবিক। তো আমি এইভাবেই দেখছি আসলে ব্যাপারটাকে।” সেদিনের ব্যাটসম্যানদের সমন্বয় নিয়ে আকবর বলেন, “সুপার ওভারে সোহানকে (হাবিবুর) পাঠানোর কারণ হলো পুরো টুর্নামেন্টে ও আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান ছিল। আর সাকলাইন (আবদুল গাফফার) ওই ম্যাচে অনেক ভালো টাচে ছিল।”

ফাইনালে হারলেও আকবর পুরো টুর্নামেন্টকে সফল হিসেবে মনে করছেন। তিনি বলেন, “আমরা আলহামদুলিল্লাহ বেশীরভাগ পার্টেই ভালো ক্রিকেট খেলেছি গ্রুপ হিসেবে। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স ছিল যেটা আমরা সবাই জানি। তো আমি বলব যে ভালো একটা টুর্নামেন্ট ছিল। যদি ফাইনালটা আমরা জিততে পারতাম আর কোনো কোনো ম্যাচে আরও কোনো কোনো ভুল কম করতাম তাহলে হয়তোবা আমি বলতাম যে একদম আমরা পারফেক্ট টুর্নামেন্ট খেলে ফিরেছি।”

আকবরের এই স্বচ্ছ স্বীকারোক্তি এবং টুর্নামেন্টের মূল্যায়ন বাংলাদেশের যুব ক্রিকেটের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে রইল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত