শাহজাদপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ডুবে থাকে ৬ মাস

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৫৭ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে খালবিল ও কৃষি জমি থেকে বর্ষার পানি অনেক আগেই নেমে গেছে। তবে উপজেলার চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ষার পানি এখনও নামেনি। ফলে এই বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অসুবিধার কারণে পড়ালেখা বিঘ্ন ঘটছে।

বিদ্যালয়ের দেড়’শ শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ে কর্মরত ৭ জন শিক্ষককে এখনও কাঁদাপানির ভিতর দিয়ে ক্যাঙ্গরুর মত লাফিয়ে লাফিয়ে ক্লাসে যেতে হয়। 

এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মায়া খাতুন ও কুসুম খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, এ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে তারা পড়ালেখা করছে। তাদের স্কুলের খেলার মাঠ পেরুলেই বিদ্যালয় ভবন। বর্ষা এলেই বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশেপাশের ফসলি জমি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তাই এ সময় তাদের নৌকায় বিদ্যালয়ে যেতে হয়। 

ওই শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বর্ষায় ডিঙি নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পায়। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভয়ের মধ্যে থাকত হয়। শিক্ষার্থীরা জানায় নভেম্বরের শেষেও তাদের বিদ্যালয় থেকে বর্ষার পানি পুরোপুরি না নামায় এখন কাঁদাপানির ভিতর দিয়ে প্রতিদিন তাদের বিদ্যালয়ের যেতে হয়। এছাড়া স্কুলের খেলার মাঠটি বছরের ছয় মাসেরও বেশি সময় পানিতে ডুবে থাকায় খেলাধুলা করতে পারেনা সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া স্কুল শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করাও সম্ভব হয় না। 

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব জানান, তাদের স্কুলটি যে স্থানে সে স্থানটি নিচু হওয়ায় উঁচু পিলার করে ভবন তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা এলে স্কুল মাঠ সহ পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে তার বিদ্যালয়ে দেড়”শ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৭ সালে। তিনি জানান, এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আশে পাশের বহু গ্রামের ছেলে মেয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়টির প্রতি তাদের তেমন আগ্রহ নেই। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য আজ পর্যন্ত রাস্তা হয়নি। প্রায় দেড় বিঘা জায়গার উপর ৭৮ বছর আগে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে কায়েমপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চিথুলিয়া গ্রামে নিচু জমির উপর বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে স্কুলের শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নত হয়েছে। স্কুলের খেলার মাঠ নিচু। আজও ভরাট হয়নি। এ মাঠ দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় বিদ্যালয়ের খোলার মাঠ পানিতে ডুবে যাওয়ার এ সময় পায়ে হেঁটে কেউ স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারে না। 

তিনি আরও জানান, উপজেলা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও স্কুল মাঠটি ভরাটের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। 

এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ও এলাকাবাসী জানান, আড়াই’শ ফিট লম্বা রাস্তা করলে বর্ষায় স্কুলের ছেলে মেয়েরা সহজেই স্কুলে যেতে পারবে। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মুরাদ হোসেন জানান, চিথুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাঠ ভরাট করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় স্কুলের মাঠ ভরাট করা যাচ্ছে না। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জান বলেন সরেজমিন স্কুল দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত