সিলেটের কিশোরদের দুই গ্রুপের বিরোধে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মাহমুদ হাসান তপু (১৫)। সে সিলেট নগরীর বাদামবাগিচা আবাসিক এলাকার উদয়ন ৪০/২ নম্বর বাসার শাহ এনামুল হকের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তপুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তপু মারা যায়। নিহত তপু খাসদবির উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। হত্যায় জড়িত অভিযোগে তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
তপুর বড় ভাই রুবেল আহমদ দাবি করেছেন, তপুকে রাতে ঘর থেকে ডেকে নেয় জাহিদ হাসানসহ আরও কয়েকজন। এরপর তারা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে তপু খুন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসানসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, তপু ও জাহিদ পরস্পরের বন্ধু। তবে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য নিয়ে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তপুর পেটে ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে বৃহস্পতিবার রাতে তপু ও জাহিদসহ দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে জাহিদকে তপু মারধর করে। পরে তপুকে ছুরিকাঘাত করে জাহিদ। গুরুতর অবস্থায় তপুকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার সকালে সে মারা যায়।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে। তারা হলো- খাসদবির এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে জাহিদ হাসান, লোহারপাড়া এলাকার আবদুল মনিরের ছেলে অনিক মিয়া ও বশিরুল ইসলামের ছেলে জুনেদ আহমদ।
পারিবারিকসূত্র জানায়, নিহত তপু ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তপুর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
