মির্জা ফখরুল বললেন

লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরুতে হবে সাংবাদিকদের

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২৯ এএম

সাংবাদিকদের রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। এ সম্মেলনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সারা দেশের ১৮ অঙ্গ ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের তাদের নিজস্ব যে দাবি দেওয়া, তাদের নিজস্ব যে কাজ এবং ইউনিয়নের মূল যে কাজটা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষ অথবা সরকারের সঙ্গে কাজ করা সেটাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে সমস্যার সমাধান হয় না। আপনারা যদি কেউ বিরোধী দল বলেন বা সরকারি দল বলেন তাহলে সেটা কোনোদিন হয় না।’ তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ অর্থাৎ শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমের এই জায়গাটিকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি আপনাদের (সাংবাদিক নেতারা) অনুরোধ করব সেই জায়গা থেকে আপনারা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন যে সময়টার জন্য গোটা জাতি অপেক্ষা করে আছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে যেতে সক্ষম। আমরা সবাই এটা (নির্বাচন) চাই। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চাইলে অন্যের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সেটাকে আমাদের একই সঙ্গে মূল্য দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে শত্রু মনে করা হয়। তার সম্পর্কে বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়। এ বিষয়গুলো থেকে আমার মনে হয় আমাদের সবারই একটু বিরত থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আজকে তো সবচেয়ে বড় যে ক্রাইসিসটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে, এই যে সোশ্যাল মিডিয়া। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যেহেতু কোনো দায়বদ্ধতা নেই যা খুশি তাই বলা যায়। এমনভাবে রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ীদের সবার সম্পর্কে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয় তাতে করে কিন্তু গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।’ সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোতে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সাংবাদিকদের ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের আজকে দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়াবার বড় শক্তি হচ্ছে আপনাদের ঐক্য। সাংবাদিকদের ঐক্যকে অটুট রাখা। আমরা দেখতে পারছি, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শাখায় আপনাদের ইউনিয়নগুলোতে একটা বিভক্তি আছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকুক, সাংবাদিকদের ঐক্য যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমরা জাতি গঠনে গোটা জাতিকে ঐক্যের ক্ষেত্রে আমরাও ভূমিকা রাখতে পারব।’

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজ, এলাহী নেওয়া খান সাজু, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, খুরশীদ আলম, মুন্সি আবদুল মান্নান, বারেক হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল ও প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু।

নির্বাচনের আগে পুলিশ কমিশন ও এনজিও আইন ভিন্ন উদ্দেশ্যে : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিওবিষয়ক আইন পাসের উদ্যোগে ‘সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য’ আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার পাস করাতে চাইছে। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন অন্যটি এনজিও-সংক্রান্ত আইন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনের পূর্বে এ ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ আইন দুটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত