খুলনায় ট্রিপল হত্যার পেছনে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, চুক্তি এক লাখে

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম

খুলনায় চাঞ্চল্যকর নাতনি ফাতিহা (৭), নাতি মুস্তাকিম (৮) ও নানি মহিতুন্নেছা (৫৩) হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটন করেছে পুলিশ। এক লাখ টাকার বিনিময়ে এই নৃশংস ট্রিপল হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। নিহত ফাতিহা ও মুস্তাকিমের বাবা শেফার আহমেদের আপন মামাতো ভাই ফ্রান্স প্রবাসী মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদসহ ৭ জন হত্যা মিশনে অংশগ্রহণ করেন।

জমাজমি নিয়ে বিরোধের কারণে ট্রিপল হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ শনিবার দুপুরে খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবাণীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে শেফার আহমেদের সঙ্গে তার মামাতো ভাই শামীমের বিরোধ ছিল। আদালতে মামলাও চলছে। ২০০৩ সালে শামীম একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। এরপর তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০১৭ সালে ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৭-৮ মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। জেলখানায় বসেই শামীম তার ফুফাতো ভাই শেফারের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে শামীমের। জেলখানা থেকে বের হয়ে তিনি জেলখানায় পরিচিত সন্ত্রাসীদের এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে ফুফাতো ভাই শেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন। গত ১৬ নভেম্বর দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে ৭ জন নগরীর লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফার আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে দেওয়াল টপকে একজন ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান গেটের পকেট গেট খুলে দেয়। এরপর তারা বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে একে একে তিনজনকে ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করে মুরগির খামারের কক্ষে রেখে দেয়। এরপর তারা শেফার আহমেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তারকে হত্যা করার জন্য ঐ বাড়িতেই অবস্থান করে। কিন্তু সেটি সফল করতে না পেরে তারা পালিয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ আরও বলেন, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহম্মেদ ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিলেন। তিনি খুব গোপনে ফ্রান্সে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তারা হলেন, লবণচরা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মো. আজহারুল ইসলাম আরজুর ছেলে তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) ও একই থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে তাফসির হাওলাদার (২০)। এরমধ্যে তরিকুল ইসলাম তারেকের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তাফসির হাওলাদারের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলা রয়েছে।

জবানবন্দিতে শামীম বলেছেন, হত্যা মিশন সফল হওয়ার পর তিনি ভাড়াটে খুনীদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর ঐ বাড়ি থেকে লুট হওয়া জমির দলিলপত্র ও স্বর্ণালংকার এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ মামলার সকল আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংএ নিহত ফাতিহা ও মুস্তাকিমের বাবা শেফার আহমেদ এবং মা রুবি আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত