কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরী ও কোনাপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনো হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ার ওরফে লেডাইয়া গ্রুপ ও জালাল প্রকাশ লাশ জালাল গ্রুপের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উলুচামরীর আনোয়ার প্রকাশ লেডাইয়া এবং কোনারপাড়ার জালাল প্রকাশ লাশ জালাল আধিপত্য বজায় রাখতে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের একের পর এক গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠছে। ফলে উলুচামরী ও কোনাপাড়ার মানুষ চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা মিয়ানমার থেকে আমদানিরত আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। মঙ্গলবার রাতেও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময় হয়েছে। পুরো এলাকা এখন দুই গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, হ্নীলা উলুচামরী এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে হ্নীলা আলীখালী, উলুচামরী ও কোনাপাড়া এলাকায় স্থানীয় কিছু মাদক কারবারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক বড় বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে। মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ফলে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরআগেও গেল ১৬ অক্টোবর একই এলাকায় একই কায়দায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলছিল। দুই গ্রুপের প্রধানদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অপহরণ ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবুও তারা অদৃশ্য শক্তির কারণে ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আনোয়ার ও জালাল বাহিনীর তৎপরতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, অথচ তারা এলাকায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে। দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করলে এলাকায় শান্তি ফিরবে বলে মনে করছেন তারা।
যশোরে গৃহবধূ ও শিশু ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ