দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোকিত পর্যটন স্পর্ট বাঁশখালী ইকোপার্কের সড়ক সংস্কার কাজের মেয়াদ গড়িয়ে গেলেও কাজের শেষ হয়নি। অপরদিকে দীর্ঘদিন নানা কারণে কাজ বন্ধ থেকে পুনরায় শুরু হলেও কার্পেটিং কাজে পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া ১২ ফুট প্রশস্ত সড়ক কমিয়ে ১০ ফুট করা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করছে স্থানীয় জনগণ। তাছাড়া ইকোপার্কের প্রবেশ পথের কাটের পাটাতনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পার হয়ে যেতে হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুর এ পার্কে।
অপরদিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ইকোপার্কের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর চলতি বছর থেকে আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবে তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সে কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে ইকোপার্ক পূর্বের রূপের পাশাপাশি আধুনিকতা ফিরে পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বনবিভাগের চুনতি অভয়ারণ্যের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক এবং জলদী অভয়ারণ্যের অবস্থান। এখানে প্রকৃতিগত ভাবে হাতির বিচরণ ও প্রজনন স্থান। বনবিভাগ এবং দেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ বনাঞ্চলের গুরুপ্ত অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বাঁশখালী ইকোপার্কের প্রবেশ পথের ১.৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে কোন বরাদ্দ এখনও মেলেনি। আর পার্কের প্রবেশ পথের কাটের পাটাতন দেওয়া ব্রিজ। যেটাতে ভারী যানবাহন ও বড় কোন গাড়ি পার্কে যেতে পারে না। তাছাড়া চলমান ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের ১০ ফুট প্রসস্থ করে ৩.৩৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলতি বছরের বিগত জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজ শুরুর পর কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ জনগণ ও পর্যটকেরা হতাশ হয়েছিল সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকায়। আবার সে কাজ শুরু হলেও কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেন স্থানীয় জনগণ। তবে কাজ যথাযথভাবে শেষ করার জন্য সরজমিনে পরিদর্শন করেন শীলকুপ ইউনিয়নের প্যানেল ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রাশেদ নুরী। তিনি জানান সংস্কার কাজটি শেষ হলে আশানুরূপ পর্যটক আসবে পার্কে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
চলমান সড়ক সংস্কার পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংবাদকর্মী শিব্বির আহমদ রানা বলেন, বাঁশখালী ইকোপার্ক সড়ক, হালকা বিটুমিন আর আধ ইঞ্চির মতো ঢালাই দিয়ে ৪২ নম্বর কাজ চলছে। ইকোপার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এরকম কারচুপি না হলেও পারতো। এমনিতেই সড়কটি আগের চেয়ে সরু করা হয়েছে। টিকবে তো মাস দু'এক?
উল্লেখ্য বাঁশখালীর পূর্বাঞ্চলের চুনতি অভয়ারণ্যের কয়েক হাজার হেক্টর জায়গা জুড়ে অবস্থিত বাঁশখালী ইকোপার্ক। বন বিভাগ ২০০৩ সাল থেকে বাঁশখালী ইকোপার্ক এর আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কের যাত্রা কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতেই বহুমুখী উন্নয়ন, নানা প্রজাতির পশুপাখির সমাগম মিলে সাড়া জাগানো এ পার্ক একনজর দেখার জন্য সারাদেশ থেকে ভিড় জমাতে থাকে। কিন্তু ২০০৮ সালে প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলের পানি তোড়ে বাঁশখালী ইকোপার্কের বামের ছড়ার বাঁধ ভেঙে ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ও হাইড্রোইলেক্ট্রনিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি তছনছ হয়ে যায়। এ সময় ইকোপার্কের বেশ কিছু স্থাপনা ভেঙে গেলে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পায়। পাখির কিচিরমিচির শব্দ, পশু পাখির বিচরণে মুখরিত থাকলেও দীর্ঘ সময় আশানুরূপ উন্নয়ন বন্ধ থাকা এবং অধিকাংশ স্থাপনা সংস্কারহীন হয়ে পড়ায় অনেকটা পর্যটক বিমুখ হয়ে পড়ে।
জলদী অভয়াণ্যের বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত এ পার্কের ব্যাপারে বাঁশখালী জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জমান শেখ জানান, বনবিভাগের পার্কের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এটা বাস্তবায়নসহ আরো বেশী উন্নয়ন ও পর্যটন উপযোগী করা প্রয়োজন। তাতে করে সরকার আরো বেশী রাজস্ব পাবে, পার্ক ফিরে পাবে আধুনিক ও পূর্বের বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাঁশখালী ইকোপার্কে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হক বলেন, বাঁশখালী ইকোপার্ক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। বাঁশখালীর এই পর্যটন কেন্দ্রটি কে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বন বিভাগ ইতিমধ্যে ইকোপার্কের মাস্টারপ্ল্যান জমা সহ কাজ বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইকোপার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ, উদ্ভিদ, প্রাণী, জীববৈচিত্র, জলজ বাস্তুতন্ত্র, দর্শনার্থীদের আধুনিক সুযোগ সুবিধা সবকিছু বিবেচনায় রেখে বিশেষজ্ঞ দল মাস্টারপ্ল্যানটি বাস্তবায়ন হলে এবং ইকোপার্ক আরো প্রশস্ত করে সংস্কার দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তিনি ।
২২তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ৬টি ব্রোঞ্জ পদক জয়
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণ পেলেন জুনায়েদ, সাদিক কায়েমসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা