ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুর ছানা হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া সেই নারীর জমিন মঞ্জুর

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮টি কুকুর ছানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সেই সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পাবনার আমলী আদালত-২ এর বিচারক তরিকুল ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশফেকা জাহান কণিকা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 তিনি বলেন, রবিবার আসামির জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারক শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করে। এটি জামিনযোগ্য অপরাধ হওয়ায় এবং মহিলা বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। পরবর্তী হাজিরা তারিখ আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি।

গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৮টি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে গৃহবধূ নিশি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতেই ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।  

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি বেগমকে একমাত্র আসামি করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ঘটনাটিকে “অমানবিক” উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে এনিমেল অ্যাকটিভিস্ট কমিটির একটি তদন্ত দল ঈশ্বরদীতে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অন্যদিকে, নৃশংস এই ঘটনার জেরে অভিযুক্তের স্বামী হাসানুর রহমান নয়নের পরিবারকে সরকারি কোয়ার্টার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

পাবনা আদালতের অ্যাডভোকেট মোশফেকা জাহান কণিকা বলেন, এখন মামলা তদন্ত হবে, তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল হবে। তখন আমরা যদি দেখি অভিযোগপত্র বা তদন্ত সঠিকভাবে হয়নি, তখন আমরা না রাজি আবেদন সহ পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেব। আমরা চাই তদন্ত সঠিকভাবে হোক, এই বিচারের শাস্তি নিশ্চিত হোক।

পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তাকারী হিসেবে আমরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। সঠিক বিচারের জন্য আগামীতে এই মামলাটি চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের প্রতিবাদটা হলো নিষ্ঠুরতা বা হিংস্রতার বিরুদ্ধে। ওই আসামির বিরুদ্ধে নয়। নিষ্ঠুরতা ও হিংস্রতার বিরুদ্ধে একটা শাস্তি হলে অনেকেই সতর্ক হবে।  

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের একটি কোনায় টম নামের একটি কুকুর বসবাস করতো। গত এক সপ্তাহ আগে টম আটটি বাচ্চা প্রসব করে। গত সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে তার ছানাগুলো না পেয়ে পাগলপ্রায় অবস্থায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কান্না আর ছুটাছুটি করতে দেখা যায় মা কুকুরকে। 

পরে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা জানতে পারেন, ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন এর স্ত্রী নিশি রহমান জীবন্ত ৮টি কুকুর ছানাকে বস্তার মধ্যে বেঁধে রাতের কোনো এক সময় ফেলে দেন উপজেলা পরিষদের পুকুরে। পরদিন সোমবার সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় কুকুর ছানাগুলোর মরদেহ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে নিশি রহমানকে আসামি করে থানায় একটি মামলাটি করেন। রাতেই ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পরদিন বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান এবং তাকে উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত