ডিমের উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় মারাত্মক সংকটে পড়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুরগি খামারিরা। তাদের নীরব কান্না দেখার যেন কেউ নেই। প্রতি ডিম উৎপাদনে যেখানে খরচ পড়ছে ৯ টাকা, সেখানে পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে প্রতিটি ডিমে অন্তত দেড় টাকা করে লোকসান গুনছেন খামারিরা। খাবার, ওষুধের দাম বৃদ্ধি, বড় কোম্পানির আধিপত্য এবং উৎপাদন খরচ অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানের শিকার হয়ে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন, যা প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে এবং কর্মসংস্থানও হারাচ্ছে।
ডিমের পাইকারি মূল্য কমে গেলেও খুচরা বাজারে এখনো প্রতিটি ডিম ১০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে খামারিরা লোকসানে থাকলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভ করছেন। পাইকারিতে ৭ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা ডিম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খুচরায় ১০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। খামারিরা লোকসানে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ বাজারে সেই কষ্টের প্রতিফলন নেই। বরং খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। একদিকে খামারিদের ক্ষতি, অন্যদিকে ক্রেতার বোঝা উভয়পক্ষের ওপরেই চাপ বাড়ছে। কিন্তু লাভের জায়গাটি থেকে যাচ্ছে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের হাতে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, ডিম উৎপাদন করে এমন মুরগির খামারের সংখ্যা আছে ২৮টি। যদিও খামারিরা বলছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তালিকাভুক্ত খামারের বাইরে অনেক বেশি খামার রয়েছে এই উপজেলায়। মধ্য ইসলামাবাদ গ্রামের জাহিদ হোসেন নামের এক খামারি বলেন, ‘প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় ৯ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকা দরে। প্রতিদিন ক্ষতি ১২ হাজার টাকার ওপরে। মাসে ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা।’ তিনি আরও জানান, শীতকালে ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর তার উল্টো। সামনে রমজান মাস আসছে ডিমের দাম আরও কমে যাবে। কিন্তু এই ক্ষতি দেখার কেউ নেই।
লুধুয়া এলাকার প্রান্তিক খামারি মো. কবির বলেন, ‘পাইকারিতে দাম কম হওয়ায় প্রতিটি ডিমে লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছি। খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে, ওষুধের খরচও বাড়ছে। তার ওপর মুরগির রোগবালাই লেগেই আছে। এ অবস্থায় অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। আমরা টিকে থাকতে চাই, কিন্তু অবস্থাটা খুবই কঠিন। আমরা চাই, আমাদের খামার বাঁচুক, উৎপাদিত ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হোক।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, ‘খামারিরা বর্তমানে খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। প্রতিটি ডিম উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিদিনই লোকসান করছেন। যদিও পাইকারি বাজারে দাম কম, খুচরা বাজারে ডিমের দাম অনেক বেশি, যা অযৌক্তিক। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং চালাব, যাতে এ ব্যবধান কমানো যায়।’
