গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনে তোড়জোড়

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ এএম

চলমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় যে জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল; তা আগামী বছরের শুরুতে কার্যকরের পরিকল্পনার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে গাজায় আন্তর্জাতিক সেনা মোতায়েন করা হতে পারে, যারা জাতিসংঘের অনুমোদিত একটি স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করবে। তবে ফিলিস্তিনি জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসকে কীভাবে নিরস্ত্র করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বাহিনীতে যোগ দিতে ইন্দোনেশিয়া সেনা প্রস্তুত করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহু দেশ এতে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ওয়াশিংটন বর্তমানে এই বাহিনীর আকার, কাঠামো, বাসস্থান, প্রশিক্ষণ এবং নিয়মাবলি নিয়ে কাজ করছেন।

কর্মকর্তারা জানান, গাজার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর পরিকল্পনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে দোহায় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে। ২৫টির বেশি দেশ এই সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে যেখানে নেতৃত্ব কাঠামো এবং গাজাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একজন টু-স্টার জেনারেলকে এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বাহিনী মোতায়েন ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথম ধাপে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ১০ অক্টোবর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শুরু হয় এবং হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিয়েছে ও ইসরায়েল আটক কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিয়েছে।

এদিকে, গাজায় শক্তিশালী ঝড় বায়রনের প্রভাবে তিন শিশুসহ অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, উত্তর গাজার বির আন-নাজা এলাকায় এক আশ্রয়কেন্দ্র ধসে পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় দেয়াল ভেঙে তাঁবুর ওপর পড়ে আরও দুজন প্রাণ হারান। এর আগে শাতি শরণার্থীশিবিরে একজন মারা যান এবং আল-মাওয়াসিতে ঠা-ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। জাতিসংঘের হিসাবে ৭৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত