ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এ সময়ে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। তবে বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে বাজার মূলধন বাড়লেও সিএসইতে কমেছে। তবে আলোচ্য সময়ে ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। গতকাল শনিবার ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৭ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৩ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯০৩ পয়েন্টে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪ পয়েন্টে এবং এসএমই ইনডেক্স ৫৫ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২ কোটি ২ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৬০৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৫৫১ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৮৭৫ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) শূন্য ১৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৯১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
এ সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৫৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১১ কোটি ৩ লাখ টাকা।
ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে শূন্য ৬৮ শতাংশ : এদিকে বিদায়ী সপ্তাহে (৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর) ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮ দশমিক ৭০ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর) পিই রেশিও ছিল ৮ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮ দশমিক ৭০ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে শূন্য দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯ দশমিক ১১ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ৯ দশমিক ১৮ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১০ দশমিক ৬২ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১ দশমিক ১৪ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১১ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১২ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১২ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে; সাধারণ বীমা খাতে ১৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট, বিবিধ খাতে ১৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৬ দশমিক ১১ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১৬ দশমিক ২১ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২১ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৬১ দশমিক ১৪ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৮৮ দশমিক ২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
