নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের অনেকের মন ভেঙে যাবে। আমি আসলে নির্বাচন করব না। আমি উদ্বিগ্ন। আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। জানি, এটা আপনাদের জন্য কতটা কষ্টের। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিন। একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব। আমি জানি কী করছি। এটা অনেকের কাছে তীরে এসে তরী ডোবানোর মতো। আমার কাছেও তাই মনে হচ্ছে। অনেকের বুক ফেটে যাচ্ছে। আমার সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি পরিবারকে সময় দিতে পারি না। নির্বাচনের কারণে রাত হয়ে যায়, কিন্তু যেতে পারি না। পরিবার চায় না। সদস্যরা অত্যন্ত ব্যথিত ও ভীত। এর বাইরে কিছু নিরাপত্তা ইস্যু আছে। বিশদ বলার মতো নয়। পরিবেশই নেতিবাচক। সব বিবেচনা করে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিকে, মাসুদুজ্জামানের সরে দাঁড়ানোর পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করেন ভোটার ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে মাসুদুজ্জামান আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে ব্যবসা করেছেন, যা অনেকে ভালোভাবে দেখেননি। বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সদ্ভাব ছিল না। ভোটারদের কাছে তিনি অপরিচিত। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির গুঞ্জনও রয়েছে। হয়তো হাইকমান্ড গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সরিয়ে দিতে পারে, তাই আগেভাগেই সরে গেছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, ‘মাসুদুজ্জামান যেসব কারণ দেখিয়েছেন, তা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। পেছনে দলীয় কিংবা অন্য কোনো ব্যাপার রয়েছে কি না, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে মাথাব্যথা করলে তো মাথা কেটে ফেলা যায় না।’
সুজন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘মাসুদুজ্জামান যেসব কারণ দেখিয়েছেন, তেমন পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জে হয়নি। তার এ সিদ্ধান্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।’
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে প্রার্থীর নাম ছিল। গত ৩ নভেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
