গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি মাজারে রান্না করা পুড়ে যাওয়া খিচুড়ি বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধাক্কায় আহমেদ উদ্দিন (৫৫) নামের এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের নয়নসুখ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আহমেদ উদ্দিন নয়নসুখ গ্রামের মৃত আফিল মুন্সির ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নয়নসুখ গ্রাম সংলগ্ন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বারোবলদিয়া গ্রামের মুর্শিদের বাজার এলাকায় একটি মাজারে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করেন বারবলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেনু মিয়া (২৫)। মাজারে পুড়ে যাওয়া খিচুড়ি বিতরণকে কেন্দ্র করে ওই রাতেই স্থানীয়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় রেনু মিয়ার সঙ্গে আহমেদ উদ্দিনের বাকবিতণ্ডা হয়।
এদিকে বুধবার সকালে রেনু মিয়া আহমেদ উদ্দিনের নয়নসুখ গ্রামের হোমিও দোকানের সামনে দিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন।
এ সময় রেনুকে উদ্দেশ্য করে আহমেদ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাকে কেন পুড়ে যাওয়া খিচুড়ি দেওয়া হয়। এনিয়ে রেনু মিয়ার সঙ্গে আহমেদ উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রেনু মিয়া সজোরে ধাক্কা দিলে আহমেদ উদ্দিন মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার বিকাল পাঁচটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রেনু মিয়া গা ঢাকা দিয়েছেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
