সুদানে নিহত সবুজ মিয়ার গ্রামে বাড়ি গাইবান্ধায় পৌঁছেছে

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়ার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় পৌঁছেছে। 

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা .... দিকে হেলিকপ্টারযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলশীঘাট হেলীপ্যাড আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। এরআগে সুদান থেকে গত শনিবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতার পর ঢাকা সেনানিবাসে তার জানাজা সম্পন্ন করে। 

নিহত সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামের মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। 

স্ত্রী নুপুর আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমাদের নতুন সংসার। অনেক স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল, এখন স্বামীকেই হারালাম।

এ সময় তার বৃদ্ধা মা ছকিনা বেগম (৬৮) কখনো কাঁদছেন, কখনো সংঞ্জাহীন হয়ে পড়ছেন। তিনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা কণ্ঠে নিজের ভাষায় বলছিলেন, ‘হামার একন্যা ব্যাটা। তাই কিসোক বিদেশোত গ্যালো। বিদেশোত না গ্যালে মরলো না হয়। আজ ব্যাটা হামার লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরল, আমাকে আর কেউ ওষুধ এনে, ডাকবে না, মা তোমার ওষুধ নিয়ে আসছি। 

সবুজ মিয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, এক ভাই এক বোনের মধ্যে সবুজ মিয়া ছোট। একমাত্র বোন আরফিন বেগমের বিয়ে হয়েছে। সে ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। 

সবুজ ২০১০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দেড় বছর আগে নওগা জেলায় বিয়ে করেন। তাদের কোন সন্তান নেই। গত ৭ নভেম্বর সবুজ মিয়া সুদানের আগেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যান।

সবুজ মিয়ার চাচা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দেড়মাস আগে সবুজ বাড়িতে এসেছিল। সে বিদেশে যাওয়ার আগে বলেছিল, সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে অনেক টাকা ভাতা পাবে। সেই টাকা দিয়ে বাড়িতে অসমাপ্ত ঘর ঠিকঠাক করবে। বাড়ির জায়গায় বাড়ি থাকলো, সে ফিরল লাশ হয়ে। 

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান মুঠোফোনে বলেন, সবুজ মিয়ার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাছে। 

গতকাল শনিবার সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কতৃক ড্রোন হামলা পরিচালনা করা হয়। ওই হামলায় দায়িত্বরত ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং ৮ জন শান্তিরক্ষী আহত হন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত