‘এনহ্যান্সড ইন্টারপ্লে অব নিউরোনাল কোহেরেন্স অ্যান্ড কাপলিং ইন দ্য ডাইং হিউম্যান ব্রেন’ শিরোনামের একটি গবেষণা সম্প্রতি ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগে এবং পরে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয় গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন মৃত্যু মুহূর্তে মস্তিষ্ক দ্রুত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে স্মরণ করতে পারে। তখন মস্তিষ্ক এমন মস্তিষ্কতরঙ্গ তৈরি করে, যা স্মৃতি পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি এমন প্রক্রিয়া, যা প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসা মানুষের অভিজ্ঞতার মতো বলেছেন গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. আজমল জেমার। গবেষকরা দেখেন, হৃৎস্পন্দন বন্ধ হওয়ার আগের ৩০ সেকেন্ড এবং পরবর্তী ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়। তখন মস্তিষ্কতরঙ্গে পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে, গামা তরঙ্গে। গবেষণায় আলফা, বিটা, গামা, থিটা ও ডেল্টা তরঙ্গের পরিবর্তন ধরা পড়েছে। গামা তরঙ্গ উচ্চস্তরের মস্তিষ্ক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত এবং স্মৃতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জীবনে ঘটে যাওয়া খণ্ডিত এবং একান্ত ঘটনাগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ডেল্টা ও থিটা তরঙ্গ সাধারণত গভীর ঘুমের সময় সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে, মস্তিষ্কের সচেতন চিন্তা এবং মনোযোগের সঙ্গে যুক্ত আলফা ও বিটা তরঙ্গ। গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে মস্তিষ্ক অতীতের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলো রিক্যাপ বা স্মরণ করতে পারে যা অনেক সময় মৃত্যুর আগের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
×
