ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২১ পিএম

ফরিদপুরে অজ্ঞাতনামা এক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ‌১১টার দিকে কোতোয়ালি থানায়  ‌এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‌ মো. আজমীর হোসেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে সদর উপজেলার জেলার  ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরের জনৈক হাকিম শেখ এর কলাবাগানের ভিতর একটি অজ্ঞাতনামা লাশ পড়ে থাকে। এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে লাশ দেখে তদন্ত শুরু করে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। এরপর লাশের পরিচয় শনাক্ত করে নিহতের পরিবারকে জানানো হলে তারা ফরিদপুর এসে লাশ শনাক্ত করে। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে
কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

মামলা রুজু হওয়ার পর জেলার পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর নেতৃত্বে একটি  টিম মামলাটি তদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলের ল্যাক-সেল, মৃত ব্যক্তির ‌মোবাইল নাম্বারের কল লিস্ট ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রাজিব খান গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে মান্নান হাওলাদার  নিজ ভাড়া বাড়ী হইতে উক্ত ব্যক্তির  লুন্ঠিত রিক্সা উদ্ধার করা হয়। পরে
গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী রাজিব খান ও উক্ত মৃত ব্যক্তি টিপু ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। পাশাপাশি টিপু রিক্সা চালাত।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর ‌ তারিখ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে একসাথে নেশা করার লোভ দিয়ে টিপু কাজ শেষে সন্ধ্যায় রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে আসামী রাজিবের সাথে দেখা করে। আসামী রাজিবের কাছে থাকা পুরাতন চাকু ও গাড়ীর লোহার পাতি ছিল। এরপর তারা টিপুর রিক্সায় শিবরামপুর এলাকার চাদপুর গ্রামে ফাকা জায়গায় পুকুর পাড়ের কলাবাগানে যায়। ওখানে তারা গাজা ও সিগারেট খায়। আসামী রাজিব লোহার পাতি দিয়ে  টিপুর মাথায় জোরে লোহার পাতি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় ‌ টিপু পড়ে গেলে মাথা ও মুখে আরও ৪/৫ টা বারি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর আসামী রাজিব চাকু আর পাতি পাশে থাকা পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। এরপর আসামী রাজিব উক্ত ‌টিপুর লাশ কলাবাগানে ফেলে রেখে ওর রিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শহরতলীর বাইতুল আমান এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজে ১৪,৫০০ টাকায় রিকশাটি বিক্রি করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম, এসআই হীরামন বিশ্বাসসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত