পঞ্চগড়ে তীব্র শীতের কারণে অধিকাংশ এলাকায় বাড়ছে ঠা-াজনিত রোগীর সংখ্যা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
জেলার সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যাচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সর্দি-কাশি, জ¦র, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিটি হাসপাতালের বহির্বিভাগে থাকছে রোগীদের দীর্ঘ সারি। তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা বলছেন, দিন-রাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্য শরীরের ওপর চাপ ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এই সময়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেশি থাকায় কুয়াশা বেড়েছে। দিনের বেলায়ও কুয়াশা থাকছে। আগামী কয়েক দিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে। তাপমাত্রা আরও কমবে। দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে। গত ১৭ ডিসেম্বর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পরে শীতের তীব্রতা বাড়ে।
পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ২৪৭ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে পুরুষ ৭০, মহিলা ১১৪, শিশু ৫৬ জন। এদের বেশিরভাগই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। বহির্বিভাগে ৮৭৩ রোগী সেবা নিয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জানান, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশ রোগী ভর্তি থাকে। বাধ্য হয়ে মেঝে বারান্দা, করিডরে রোগীদের রেখে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম অবস্থা।
সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে গত সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে শিশুরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশ শিশু রোগী বহির্বিভাগে আসছে। এদের মধ্য থেকে ২০-২৫ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে শয্যাসংকট থাকায় মেঝে, বারান্দা, করিডরে বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম মাহবুব উল আলম বলেন, হাসপাতালে এখন শীতজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। তিনি বাইরে বের না হওয়া, উষ্ণ পরিবেশে থাকতে মাস্ক ব্যবহার করা এবং পচা-বাসি খাবার পরিহার করার পরামর্শ দেন।
