সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৬ এএম

আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সবকটি ইউনিট ও বিজিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে। গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আপনারা জানেন, এর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধী ও মদদকারীদের শনাক্তের জন্য এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে যে অংশটুকু জনসমক্ষে প্রকাশ সম্ভব, তা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। মামলা চলাকালে এ যাবৎ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলো ঘটনার মূলহোতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু, মো. আব্দুল হান্নান। তাদের মধ্যে ছয়জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জব্দ করা উল্লেখযোগ্য আলামতগুলো হলোÑ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন ও ছোরা; হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও ভুয়া নম্বর প্লেট, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির খোসা, বুলেট, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের মোট ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার অগ্রগতি বিষয়ে আজ (গতকাল) ডিএমপি একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা ও সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে (৭ জানুয়ারি ২০২৬) এ মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি। আমি সবাইকে এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করছি। আমরা অতি দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং যারা এর পেছনে জড়িত রয়েছে তাদের নাম, ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসম্মুখে উন্মোচন করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে ফ্যাসিস্টের দোসর, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা অনবরত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করব, আমরা যেন এমন কোনো কাজ না করি, যা আমাদের শত্রুপক্ষকে শক্তিশালী করে এবং হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে। আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ওত পেতে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসর, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের বিষয়ে দলগুলোকে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী ভালোভাবে না জেনে ফ্যাসিস্টের দোসর, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের তাদের দলে স্থান দিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুরোধ করব এসব ব্যক্তির বিষয়ে আপনারা সচেতন হোন, দলের ভেতরে আড়ি পেতে থাকা সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী ও খোলস পাল্টানো দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করুন, এদের থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন। তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া এ অভিযানে ১০২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৫৩ রাউন্ড গুলি, ১৬৯ রাউন্ড কার্তুজ, ৮৯টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১২ হাজার ৩৪৮ জনসহ ২২ হাজার ৩৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল আসামি মো. রুবেলকে ২৬ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

ময়মনসিংহে ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় র‌্যাব সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা পৃথক পৃথক অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ-ছয়টি ককটেল, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ১২ ড্রাম, অন্যান্য কেমিক্যাল ৭ ড্রাম, তিনটি বই ও সিøন্টার উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার মূলহোতা আলামিন পলাতক রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। র‌্যাব গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে আলামিনের সহযোগী আহসান উল্লাহ ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত