কয়েক দশকের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার পারদ শীর্ষে রয়েছে। চলতি বছর জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ১২ দিন যুদ্ধের পর উভয় পক্ষই অস্ত্রবিরতিতে রাজি হলেও, বরাবরই এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের কয়েক মাস পেরোতেই আবারও নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের সঙ্গে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রয়েছি। আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠক সামনে রেখে এ মন্তব্য করেন তিনি।
গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওয়েবসাইটে পেজেশকিয়ানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধটি ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। উল্লেখ্য, ইরাক-ইরান যুদ্ধে দুই পক্ষের প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবার হামলা হলে আগের চেয়ে বেশি শক্ত জবাব দেবে তেহরান। তারা চায় না, আমাদের দেশ স্থিতিশীল থাকুক। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনী শক্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। সব সংকট থাকা সত্ত্বেও এখন তাদের সরঞ্জাম এবং জনবলের দুই দিক থেকেই বেশি শক্তি আছে। তারা (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র) যদি আবার হামলা চালায় আগের চেয়ে শক্তিশালী জবাব পাবে।
গত জুনে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার, পরমাণুবিজ্ঞানীসহ প্রায় ১ হাজার ১০০ জন নিহত হন। জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে ইসরায়েলের ২৮ জন প্রাণ হারান। তবে সমর বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইসরায়েল ক্ষয়ক্ষতির আসল তথ্য প্রকাশ করেনি। এদিকে, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বছর এটি হবে নেতানিয়াহুর পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্র সফর। ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বৈঠকে নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিতে ওয়াশিংটনকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এবার নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আরেকটি সংঘাত ট্রাম্পঘোষিত নীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প যেখানে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাপ দিচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু এ অঞ্চল জুড়ে সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। এ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটাই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্যগুলোর একটি এবং এ পথে ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে চান। তিনি বলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ভিন্ন দিকে যাচ্ছে এবং তারা সরাসরি কোনো সামরিক সম্পৃক্ততা ছাড়াই এ অঞ্চলকে আরও বেশি স্থিতিশীল করতে চাইছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অবস্থান শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি সংঘাতে গিয়ে ঠেকবে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করছেন; যদিও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন।
