দেশ রূপান্তর : বিকডা হঠাৎ করে ট্যারিফ বাড়াল কেন?
খলিলুর রহমান : বিকডা হঠাৎ করে ট্যারিফ বাড়ায়নি। ২০১৬ সালের পর এই প্রথম ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ট্যারিফের কয়েকটি খাতে রেট সমন্বয় করা হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর পর আমরা ট্যারিফ বৃদ্ধি করলাম।
দেশ রূপান্তর : কিন্তু বেসরকারি আইসিডি নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী ট্যারিফ কমিটির মাধ্যমে ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ বা বাড়াতে বা সমন্বয় করতে হবে। কিন্তু তা না করে আপনারা সরাসরি ট্যারিফ বৃদ্ধির চিঠি ইস্যু করলেন কেন?
খলিলুর রহমান : মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশের লজিস্টিকস খাতে কোনো বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের জন্য ট্যারিফ কমিটি নেই। এমনকি শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রভৃতি সংগঠনের মতো লজিস্টিকস-সংশ্লিষ্ট খাতেরও কোনো ট্যারিফ কমিটি নেই। অন্য কোনো স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন সংগঠনের জন্য যদি ট্যারিফ কমিটি না থাকে, তবে শুধু বেসরকারি আইসিডির জন্য কেন একপেশে প্রবিধান বলবৎ থাকবে? আর ট্যারিফ কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে ২০১৯ সালে বিকডা একটি রিট মামলা করে এবং তা এখনো বিচারাধীন। সেই রিট মামলায় কমিটির বৈধতার সপক্ষে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে বলা হলেও তারা এখনো জমা দেয়নি। একেকটি অফডক স্থাপনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। ব্যাংক সুদ, কর্মচারীদের বেতন, ইয়ার্ড ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন খাতে খরচের কারণে আমরা আর্থিকভাবে লোকসানি হচ্ছি; তাই ব্যবসায়িক ক্ষতি কমিয়ে আনতে ট্যারিফ বৃদ্ধির চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : যারা আপনাদের সেবা নিচ্ছে, সেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফাভাবে ট্যারিফ বৃদ্ধির বিষয়টি কি যৌক্তিক ছিল?
খলিলুর রহমান : আমরা ট্যারিফ বৃদ্ধির চিঠি ইস্যু করেছি ১৫ জুলাই। বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকরের সময় দেওয়া হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর। তাহলে চিঠি ইস্যু ও কার্যকরের তারিখের মধ্যে অনেক সময় ছিল আলোচনার মাধ্যমে ট্যারিফ ইস্যুটি সমাধান করার। কিন্তু সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তারা এই বর্ধিত ট্যারিফের বিরুদ্ধে রিট মামলা করেছে।
দেশ রূপান্তর : বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর না হওয়ায় আপনারা তো রপ্তানি পণ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচি দিয়েছিলেন। এখন এর সুরাহা কী?
খলিলুর রহমান : ট্যারিফ যে বাড়ানো প্রয়োজন, তা কিন্তু সেবাগ্রহীতারাও মানবেন। আমাদের কর্মসূচির পর অফডক অনুমোদনকারী সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে দুই দফা মিটিংও করেছে। আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি ট্যারিফ-সংক্রান্ত ইস্যুটি দ্রুত সুরাহা করার জন্য।
