বাঁচতে চান দুটি কিডনি বিকল হওয়া রাসেল

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন গাজী ওরফে গাজী রাসেল বাঁচতে চান। তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী আসমা আক্তার নিজের একটি কিডনি দিতে রাজি হলেও অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন অন্তত ১৫ লাখ টাকা। দীর্ঘ এক বছর ধরে কর্মহীন হয়ে পড়া রাসেলের জন্য এই অর্থ জোগাড় অত্যন্ত দুঃসাধ্য। তার ওপর রাসেলের একমাত্র কন্যা শ্রবন প্রতিবন্ধী। একমাত্র কন্যার জন্য বাঁচতে চান রাসেল।

জানা গেছে, এক বছর আগেও গাজী রাসেল সুস্থ ছিলেন। একটি গার্মেন্টসে হিসাবরক্ষকের চাকরির আয় দিয়ে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছলতার সঙ্গেই জীবন অতিবাহিত করছিলেন। নিয়তির নির্মম পরিহাসে চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ করেই কিডনি জটিলতায় রাসেলের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ডায়ালেসিস নিতে হচ্ছে তাকে। প্রতি ডায়ালেসিসে খরচ হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিদিন অন্তত ১৩ পদের ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বর্তমানে বেকার। স্ত্রী গৃহবধূ আসমা আক্তার আর মেয়ে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ইসমানুর ছাড়া আর কেউ নেই তার সংসারে।

রাসেলের চিকিৎসক ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কিডনি ডিজিসেস অ্যান্ড ইউরোলজির সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জরুরিভাবে রাসেলকে বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। সে মোতাবেক রাসেলের স্ত্রী আসমা আক্তার তাকে বাঁচাতে তার নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারে অন্তত ১৫ লাখ টাকা খরচ পড়বে। সে টাকার ব্যবস্থাই করতে পারছে না পরিবার। 

নূর হোসেন গাজী ওরফে রাসেল জানান, তার একমাত্র কন্যা ইসমানুর শ্রবণ প্রতিবন্ধী। সে কানে ঠিকমতো শুনতে পেত না। যে কারণে কথাও ভালমতো বলতে পারে না। ২০২১ সালে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে সরকারের সহযোগিতায় মেয়ের ককেলিয়ার অপারেশন করা হয়। তখন তার সঞ্চিত অর্থ খরচ হয়ে যায়। ঋণগ্রস্তও হয়ে পড়েন। সেসময়ই রাসেলের কিডনি পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেশী ছিল। টানাটানির সংসারে নিজের চিকিৎসা ঠিকমতো করাত পারেননি। চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পরে জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।

রাসেলের শ্বশুর বলেন, রাসেলের ব্যয়বহুল কিডনির চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এখন। কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয়ভার বহন করার সক্ষমতা আমাদের নেই। তাই রাসেলকে বাঁচাতে দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি।

রাসেলকে সাহায্য পাঠাতে পারেন ০১৯১৪৪৫৭৭৩৫ (বিকাশ) নম্বরে অথবা ব্যাংক একাউন্টে। 
মো. নুর হোসেন গাজী
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড 
নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা
একাউন্ট নম্বর : ৩৬১৩৭০১০৪১৫৬৬

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত