মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, বিকল্প ভেন্যুর জন্য আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ অবস্থায় আইসিসির হাতে আছে তিন বিকল্প। সহ-স্বাগতিক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা থেকে অন্য কোনো দলের ম্যাচ ভারতে সরিয়ে আনলেই সবচেয়ে কম খরচে ও ঝঞ্ঝাটে বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হবে, এমনটাই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে রক্ষিত শোকবইতে স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আইসিসির কাছ থেকে চিঠির জবাবের অপেক্ষায় আছে বিসিবি। বুলবুল বলেন, ‘আমরা আইসিসিকে একটি চিঠি লিখেছি এবং সেখানে আমাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি। কারণ আমাদের কাছে নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় এবং আমরা এটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা আইসিসিকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছি এবং আশা করছি তারা শিগগিরই আমাদের সঙ্গে মিটিংয়ের জন্য সময় দেবে, যেখানে আমরা আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরাসরি প্রকাশ করতে পারব।’
বুলবুল আরও বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ভর করছে আমাদের পাঠানো ইমেলের উত্তরের ওপর। আইসিসি থেকে কী ধরনের ফিডব্যাক আসবে তা আমরা এখনো জানি না, তবে আমরা যে শর্তগুলো দিয়েছি সেগুলো এমপিএর (মেম্বার্স পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এটি আইসিসির একটি ইভেন্ট, তাই আমরা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছি না; আমরা সরাসরি আইসিসির সঙ্গেই যোগাযোগ করছি।’ এমপিএ হচ্ছে একটি চুক্তি, যেখানে অংশগ্রহণকারী সব দলকে সই করতে হয়, এর আওতায় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনেক শর্ত ও নিয়মনীতির সম্মতি প্রদান করতে হয়।
ভারতের সঙ্গে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। দ্বীপদেশটির তিনটি স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ২০টি ম্যাচ, পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে ম্যাচ সংখ্যা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইতে। এই ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যদি অন্য ম্যাচগুলো এই দুই ভেন্যুতে দেওয়া হয়, তাহলেই এই সংকটের কার্যকর সমাধান মিলতে পারে বলে ভারতীয় ক্রিকেট সংগঠকদের বরাতে জানিয়েছে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম। আইসিসির চেয়ারম্যান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর নির্দেশনায় এরই মধ্যে ভেন্যু অদল-বদলের কাজ শুরু করে দিয়েছে আইসিসি, এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক অনলাইন সংবাদ সংস্থা ক্রিকবাজ।
সূচি ও ভেন্যু বদলে সম্ভাব্য পথগুলো খতিয়ে দেখছেন আইসিসির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যদি অন্য ম্যাচ না দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের মূল ক্ষতি হতে পারে ম্যাচ-ডে সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত আয়), স্থানীয় স্পন্সরশিপ এবং হসপিটালিটি ডিমান্ড (ভিআইপি বক্স) থেকে। বাংলাদেশ-ইতালি ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছিল ১০০ রুপি, এই ম্যাচ নিয়ে কলকাতায় ক্রিকেট ভক্তদের খুব একটা আগ্রহও দেখা যায়নি, যে কারণে টিকিট বিক্রির হার সামান্য। ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন হলে টিকিট বিক্রির আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক, তবে ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছ থেকে প্রাপ্য অন্যান্য অনেক আয় কমতে পারে তিন ম্যাচের ভেন্যু ইডেনের আয়োজক কর্র্তৃপক্ষ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবির। তবে বাংলাদেশের ম্যাচের বদলে অন্য ম্যাচ দিলে সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ারও সম্ভাবনা আছে, সেটা নির্ভর করছে কোন দলগুলো ইডেনে মুখোমুখি হবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। মুম্বাইতে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ নিয়েও স্থানীয় কারও আগ্রহ না থাকার ব্যাপারটাও স্পষ্ট, তাই আর্থিক ক্ষতিটা মুখ্য হচ্ছে না ম্যাচ স্থানান্তরে। বড় চ্যালেঞ্জ হবে সূচির অদল-বদল, নতুন করে হোটেল এবং বিমান টিকিটের বন্দোবস্ত। সম্প্রচার সূচির ওলট-পালটে বদলে যাবে বিজ্ঞাপনের হারসহ অনেক কিছুই। পুরো সূচিই তখন সাজাতে হবে নতুন করে।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘যেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্মান নেই সেই চ্যানেলটা বা সেই স্পোর্টস আমাদের দেখারও দরকার নেই। আমরা দেখবই না ওই খেলা, কেননা আমরা ক্রিকেটকে ভালোবাসি অল ওভার অল স্পোর্টসকে ভালোবাসি, কিন্তু আপনি যখন একটা আমাদের নাগরিককে যখন অসম্মান করবেন, তো আমার কাছে মনে হয় যে ওইটা আমাদের অ্যাভয়েড (না দেখা) করাই উচিত।’
