ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা অঞ্চলের বুথে আপিল করেন তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডা. জারা বলেন, ‘ঢাকা-৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। সেটি গ্রহণ হয়নি। তাই আমরা আপিল করেছি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র দেড় দিনের মাথায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ স্বঃতস্ফূর্তভাবে আমাদের স্বাক্ষর দিয়েছেন, অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন, নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বুথ করেছেন। তো এইটার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আমাদের আইনি লড়াইটা চালিয়ে যাব। যারা সই করেছেন এত অল্প সময়ে, উনারা চান আমি যেন নির্বাচনে কনটেস্ট করতে পারি।’
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন গাজীপুর-৩ আসনের ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাওলানা মুফতি শামীম। তিনি বলেন, ‘আমার হলফনামাটা অসম্পূর্ণ ছিল। তাই আজ (গতকাল) পুরো হলফনামাটা সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করলাম।’
নেত্রকোনা-৪ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী চম্পা রানী সরকার। তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমার নামে কোনো মামলা নেই। কিন্তু পুলিশ যাচাই-বাছাইকালে পুলিশ বলছে মামলা আছে। পরে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো মামলা নেই। আমরা রেকর্ড দেখে পর্যালোচনা করে এবং তা সংরক্ষণ করে নিয়ে এসেছি আপিলের জন্য। আপিলের পরেই আমরা প্রার্থিতা ফিরে পাব বলে আশা করছি।’
রিটার্নিং অফিসারদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন ৪২ জন প্রার্থী। ইসি জানায়, রংপুর অঞ্চলে ৩, রাজশাহী অঞ্চলে ৫, খুলনা অঞ্চলে ৩, বরিশাল অঞ্চলে ১, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১, ঢাকা অঞ্চলে ১৫, ফরিদপুর অঞ্চলে ৭, কুমিল্লা অঞ্চলে ৫ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২ জন আপিল জমা করেছেন। সিলেট অঞ্চলে কেউ আবেদন করেননি। তবে কুমিল্লায় একজন বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি।
সকালে আপিল বুথ পরিদর্শনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ একটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে নির্বাচন পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক আছে বলেও মনে করি।’
এ সময় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বা যাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের উভয় ক্ষেত্রেই আপিল করার সুযোগ আছে। এই আপিল ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করা যাবে।’
ইসি সচিব বলেন, এসব আপিলের ওপর ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনে শুনানি হবে।
ইসি প্রার্থীর হলফনামা যাচাই-বাছাই করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী যে তথ্য হলফনামায় দিয়েছেন, তা বাছাই করা হয়েছে। এখন সেই তথ্যের ওপর যদি কারও কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে আপিল করবেন।’
ইসিতে অনেক প্রার্থীর অভিযোগ তারা মারধরের শিকার হয়েছেন ১ শতাংশ ভোটারের সই নিতে গিয়ে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘আমার কানে এটা আসেনি। যদি এরকম অসংগতি হয়ে থাকে তাহলে রিটার্নিং অফিসার এটা দেখবেন। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন মানুষ সংক্ষুব্ধ হতে পারেন। সেই সংক্ষুব্ধের কারণ উল্লেখ করে আপিল করলে সেটা পর্যালোচনা করা হবে।’
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ইসি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে যদি খবর এসে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই আপিলটা হবে। আমরা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করি।’
প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাচন আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানো যাবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।
