১১ জানুয়ারি রবিবার বগুড়া যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন, তাই জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন করে সাজানো হচ্ছে জেলার দলীয় কার্যালয়। ঢেলে সাজানো হচ্ছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কক্ষটিও। জেলা বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া এসে রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। ১২ জানুয়ারি সকালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়ায় অংশ নেবেন তিনি। তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন। ১৯ বছর ১৮ দিন পর ১১ জানুয়ারি তিনি আবার বগুড়ার মাটিতে পা রাখবেন। তারেক রহমানের সফর ঘিরে বগুড়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া যাচ্ছেন সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সিলেট থেকে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। তার ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন কখন তাদের প্রিয় নেতা বগুড়ায় আসবেন। তাকে বরণ করতে চলছে নানা আয়োজন। শহরের নবাববাড়ী সড়কের দলীয় কার্যালয় নতুন করে সাজানো হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে রয়েছে একটি আলাদা রাজনৈতিক কক্ষ, যা তারেক রহমান বিগত সময়ে ব্যবহার করতেন। ২০০৬ সালে তারেক রহমান বগুড়া থেকে চলে যাওয়ার পর আর কক্ষটি ব্যবহার করা হয়নি। ১৯ বছর পর কক্ষটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। সেখানে তারেক রহমান বসবেন এবং বগুড়া থেকে আবারও উত্তরের রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করবেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পুরো দলীয় কার্যালয়ই নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক কক্ষ রঙের কাজ করছেন রঙমিস্ত্রি ইসলাম প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি অফিসে রঙের কাজ করছি। এই রুম যে তারেক রহমানের তা জানাই ছিল। অনেক আনন্দ লাগছে।’ ওই রুমে কাজ করা বোর্ডমিস্ত্রি রিমন বলেন, ‘ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করছি। নিজের সর্বোচ্চ দক্ষতা দিয়ে কাজ করছি। তারেক রহমান এ রুমে বসবেন। কাজ করতে আলাদা আনন্দ লাগছে।’
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘তারেক রহমান বগুড়া আসবেন। খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়ায় অংশ নেবেন। বগুড়ার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিতে। দলীয়ভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এ আয়োজন কীভাবে করা হবে।’
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরের ছেলে ঘরে আসছে। এটাই আমাদের চাওয়াপাওয়া। আগামী দিনের রাজনীতির পথপ্রদর্শক হয়ে ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। দেশনেত্রীর প্রয়াণে আমরা ব্যথিত। এখন তারেক রহমান দেশের হাল ধরবেন। ধ্বংসের কিনারা থেকে তুলে দেশে আবারও উন্নয়নের জোয়ার তুলবেন। দেশ হবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর।’ বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান। বগুড়ার মানুষ, তাদের ছেলেকে আবারও দেখতে পারবে। সবার কাছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাই।’
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুসারে আমরা ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী প্রস্তুত আছি। এখন শুধু অপেক্ষার পালা আমাদের অভিভাবক কখন আসছেন।’
গাবতলী পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়ার ছেলে তারেক রহমান। তার আগমনে আমরা আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত। শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তিনি। তারেক রহমান তাদের যোগ্য উত্তরসূরি। তার নেতৃত্বে ফ্যাসিস্টমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। উন্নয়নবঞ্চিত বগুড়াসহ সারা দেশে ধারাবাহিক উন্নয়ন সাধিত হবে।’
১৭ বছর পর গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান দুটি আসনে নির্বাচন করবেন। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন। তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী। সেখান থেকেই ২০০১ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
