নানা অভ্যন্তরীণ সংকট ও গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। গত ২৮ ডিসেম্বর রবিবার প্রথম ধাপের ভোটে সেনাসমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৭ শতাংশ আসনে জিতেছে দলটি। গত সোমবার এই তথ্য জানায় মিয়ানমারের গণমাধ্যম ইরাবতি ও বার্তা সংস্থা এএফপি। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্যুর মাধ্যমে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে। দেশের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন আয়োজন করে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সরকার।
প্রায় পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের পথে’ ফিরে আসার উদ্যোগ হিসেবে দেখাতে চাইছে সামরিক জান্তা। আরও দুই ধাপে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের ভোট হবে। দেশটির গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক দল ও বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বাচন বয়কট করেছে। ইতিমধ্যে পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণতন্ত্রকামীরা এই ভোট নাকচ করেছেন। তারা এর বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মত দেন, এটি সামরিক শাসনেরই আরেক রূপ হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ, এই নির্বাচন ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ ছাড়া আর কিছুই হবে না। যুক্তি হিসেবে তারা অং সান সু চির কারাদণ্ড, তার দল বিলুপ্ত করা, ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও ভোটে সেনাবাহিনীর মিত্রদের আধিপত্যের কথা উল্লেখ করেন।
ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রত্যক্ষভাবে সেনাবাহিনীর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ফলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২ আসনের মধ্যে ৮৯টিতে জয়লাভ করে ইউএসডিপি। বাকি আসনগুলো আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি দল জিতে নেয়। বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র নিরীক্ষকরা ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর আজ্ঞাবহ দল হিসেবে বিবেচনা করেন। দলটির জ্যেষ্ঠ পদে অসংখ্য সাবেক ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আছেন। ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা এবং ২৫ জানুয়ারি ভোটের তৃতীয় ও শেষ ধাপের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে। তবে ভোটের ফল যাই হোক, নিম্নকক্ষের ২৫ শতাংশ ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
