পূবাইলে কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে কর্তৃপক্ষ উধাও

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে একটি তৈরি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে উধাও হয়ে গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কারখানাটির কয়েক’শ শ্রমিক।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিতে গিয়ে বন্ধের নোটিশ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানা খুলে দিতে ও বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইল থানাধীন কামারগাঁও এলাকায় অবস্থিত ডাইরেক্ট স্পোর্টস অ্যান্ড লেজারওয়্যার (বিডি) লিমিটেড নামের কারখানাটি বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সদস্যভুক্ত এবং কারখানাটিতে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানা মালিকপক্ষ বুধবার সকালে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে সকাল ৮টা থেকে শতাধিক শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। 

কারখানার নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘এতদ্বারা ডাইরেক্ট স্পোর্টস এন্ড লেইজারওয়্যার (বিডি) লিমিটেড এর সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকগণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত ৪ ও ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে শ্রমিকগণ অবৈধভাবে কারখানাতে কাজ বন্ধ করে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বার বার কাজে যোগদানের জন্য শ্রমিকগণকে অনুরোধ করা সত্বেও তারা কাজে যোগদান না করে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে অসদাচরন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শ্রমিকদের এরূপ আচরন অবৈধ ধর্মঘটের সামিল।

এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যাহা আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখ হতে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, ১৩ ধারা (০১) উপধারা অনুযায়ী কারখানার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে কারখানা খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।’ 

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা কারখানাটিতে কাজ করছেন। সম্প্রতি কোনো নোটিশ ছাড়াই শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে এবং ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। কবে এসব টাকা দেওয়া হবে সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছে না।

তারা আরও জানান, কিছুদিন আগে কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই না করার আশ্বাস দিলেও সর্বশেষ তিন দিন আগে আরও তিনজন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এ নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছিল। মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মালিকের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দিলেও বুধবার সকালে এসে শ্রমিকরা দেখেন রাতারাতি কারখানা বন্ধ করে সবাই উধাও হয়ে গেছেন।

শ্রমিকরা বলেন, কারখানা বন্ধ করলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খল আচরণ করব না। আইনগত যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমেই আমরা আমাদের দাবি আদায় করব।

এ বিষয়ে পূবাইল থানার এসআই মো. জনি জানান, কারখানার শ্রমিকরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরে গিয়েছে। কারখানায় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই কারখানার সামনে পূবাইল থানা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত