মানষে হামাক ঘর দিয়া দিছে। সেই ঘরত প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে নিয়ে থাকম। দু-ক্যান খ্যাঁতা দিয়ে হামারের ঠাণ্ডা মরে না। এইবার যে হিয়েল (শীত) পড়ছে। ঘর থাইকা বাইর হওনা যায় না। শীতোত খুব কষ্ট হয় হামার। তোমরা যে কম্বল দিলেন। এই ক্যান দিয়া শীতে আরাম হবে। রাতে আরাম করে ঘুমাবার পাম। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের বিধবা ছকিনা বেগম।
নব্বইরোর্ধ্বে ছকিনা বেগমসহ ২ হাজার শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও দুই হাজার কম্বল বিতরণ করা হবে। রংপুর রাইডার্স ও এসবিজির উদ্যোগে আজ বুধবার বিকেলে বোয়ালীয়া ইউনিয়নের সাহেব উল্লাহ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এসব কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ সময় থানছিপুর, কাচারি, খামার বোলায়ালিয়া, খেয়াঘাট, গুচ্ছ গ্রামের নানা বয়সী নারী-পুরুষের হাতে এসব কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
বিতরণের সময় রংপুর রাইডার্সের হেড অফ অপারেশন তাসভিরুল ইসলাম অভি, বোয়ালী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু, সাহেব উল্লাহ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
কম্বল পেয়ে থানছিপুর গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৭৫) বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন চলে। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। তাই মাঝেমধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। কম্বলটা পেয়ে খুবই উপকার হলো।
কম্বল হাতে জাহেদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে। তারা নিজেদের সংসারই ঠিকভাবে চালাতে পারে না। হামি নিজেও তেমন চলতে পারি না, খুব কষ্ট করে নিজের খাওনের জোগান দেই। অভাবে সংসারে শীতে হামার খুব কষ্ট হচ্ছিল। আজ থেকে কষ্ট কমলো।
ফেলানী হ'ত্যা দিবস ও প্রতিবাদ, কথা বলছেন সাদিক কায়েম