নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, দেশে বর্তমানে নির্বাচনের জন্য কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলীয় বিবেচনায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
ডা. তাহের বলেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে দলীয় ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পরিবর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। আমরা এসব বিতর্কিত ডিসি ও এসপিদের বদলির ব্যাপারে কমিশনকে বলেছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা চরম বৈষম্য দেখেছি। বিএনপির ১২-১৩ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে একই আইনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি।
নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে অনেক বেশি প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে একেবারেই দেওয়া হচ্ছে না। মেজর পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে সরকারের আচরণে সমতা থাকা উচিত। ইসি নীতিগতভাবে আমাদের এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রচার চালাচ্ছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন কার্ড দেবে। এটি সরাসরি আচরণবিধির লঙ্ঘন। কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, আমরা এখন তাদের পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছি।
ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, আমিরে জামায়াত যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন ভারতীয় দূতাবাস দেখা করতে চেয়েছিল। তারা বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল এবং আমরা তাদের সেই অনুরোধ রেখেছি। এর বাইরে ভারতের সঙ্গে কোনো ফরমাল বৈঠক হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক রয়েছে, যা আমরা কমিশনকে অবহিত করেছি।
এনসিপিকে ১০ আসন দেওয়ার খবর কাল্পনিক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ১০টি আসন ছাড়ের বিষয়ে যে খবর রটেছে, তাকে ‘কাল্পনিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল সকালে রাজধানীতে জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে কথা বলেন জামায়াতের এ নেতা। গতকাল জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আসেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি।
ডা. তাহের বলেন, ‘এনসিপিকে ১০ আসনে ছাড় দেওয়ার যে খবর রটেছে, বিষয়টি কাল্পনিক।’ তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী আসন সমঝোতা শিগগির হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের একটি দলের প্রতি পক্ষপাতী আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। এই শঙ্কা দূর না হলে জনগণ ফুঁসে উঠবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।’
