ইইউর সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৮ এএম

বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইইউ এ চুক্তিটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সই করতে চায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে অংশীদারত্বে সহযোগিতার জন্য চুক্তির (পিসিএ) সর্বসম্মত খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি জানায়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনা গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার যথাক্রমে ঢাকা ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়।

এই লক্ষ্যে ইইউর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে। আলোচনায় ইইউর নেতৃত্ব দেন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাওলা পাম্পালোনি। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) ড. মো. নজরুল ইসলাম। আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ দুই দিকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শারীরিক এবং ভার্চুয়ালভাবে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আলোচনা শুরু করে উভয়পক্ষ চূড়ান্ত যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একমত হয়েছে, সেগুলো হলো আইনি ও বিচার, বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার, জ¦ালানি, মৎস্য, জলজ পালন ও সমুদ্র শাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার ও শুল্ক ইত্যাদি। উভয়পক্ষ একটি ব্যাপক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী চূক্তিতে পৌঁছানোর জন্য গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেয়, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রাধিকারগুলোকে প্রতিফলিত করে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হয়।

স্বাক্ষরিত হলে, পিসিএ বাংলাদেশ-ইইউ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশগত টেকসই সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ¦ালানি, পরিবহন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন, বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে সাহায্য করবে। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পিসিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত