বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া

 সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বললেন তামিম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ এএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ভারতে দল না পাঠানোর শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১ মাস আগে সূচিতে বদল আনতে অপারগতা জানিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলে আছে পয়েন্ট এবং রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা। এমন অবস্থায় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ তামিম ইকবালের। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বৃহস্পতিবার জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘অনেক সময় সংলাপে অনেক কিছুর সমাধান করা যায়।’

ঢাকার সিটি ক্লাব মাঠে, জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা (টি-১০) এর ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম এসেছিলেন আসরের  ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে। বিসিবি সভাপতি হতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তামিম। যদি তিনি এই মুহূর্তে বিসিবির সভাপতি থাকতেন, তাহলে কী করতেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তামিম বলেছেন, ‘আমি যদি বোর্ডে থাকতাম তাহলে আমার সিদ্ধান্ত গ্রহণটা হতো আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু চিন্তা করে। হ্যাঁ, অনেক কিছুই ঘটছে। জিনিসটা একটু জটিল, এই মুহূর্তে হঠাৎ করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া (কঠিন)। তবে অবশ্য অবশ্যই একটা জিনিস আপনার মাথায় রাখতে হবে যে সবাইকে একসঙ্গে মিলে অনেক সময় সংলাপে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বক্রিকেটে কী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎটা কী হতে পারে, সবকিছু চিন্তা করে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিতাম।’ তামিম আরও জানান, ‘আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটা স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার এটার অনেক বড় অংশ, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে যখন আমরা স্বাধীন সংস্থা মনে করি, তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও নিজস্ব কিছু একটা সিদ্ধান্ত  থাকতে হবে। আর তারা যদি মনে করে এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক, তাদের ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ সাবেক এই অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘কারণ জনমত অনেক রকমের থাকবে। আমরা যখন খেলতে যাই, তখন অনেক ধরনের দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলেন। তবে সবকিছু যদি আমরা ওইভাবে চিন্তা করি তাহলে আপনি এত বড় সংস্থা চালাতে পারবেন না। কারণ আজকের সিদ্ধান্ত কিন্তু আগামী ১০ বছর পর গিয়ে কী প্রভাব ফেলবে এগুলো চিন্তা করে যে জিনিসটা আমাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো, তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি। যেহেতু আমি ক্রিকেট বোর্ডে এখন নেই, তাই আমার সিদ্ধান্তটা আপনাকে বলতে পারছি না। যদি আমি থাকতাম তাহলে জানতেন।’

বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ ও যে নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিচালকরা পদে বহাল হয়েছেন, সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দাবি করে লিগে অংশ নেওয়া থেকে বিরত আছে অনেক ক্লাব। এই বিদ্রোহী ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে ছিলেন তামিম, যদিও তার ক্লাব ওল্ড ডিওএইচএস এই মুহূর্তে খেলছে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে। বিসিবির ভারতে খেলতে না যাওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষে না বিপক্ষে তামিমের অবস্থান, এমন প্রশ্নে তার উত্তর, ‘যেহেতু আমি এটার সঙ্গে জড়িত না, আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রত্যেকটা ব্যাপার জানি না। ঠিক যে কোনো একটা মানুষের মতো আমিও ধরেন গণমাধ্যমেই সব জানছি। তবে আমি নিশ্চিত যারা এই জিনিসটা সামলাচ্ছেন, তাদের কাছে তথ্য আরও অনেক বেশি আছে আমার চেয়ে। যে কারণে আমার হঠাৎ করে একটা মন্তব্য করে দেওয়া এটা আমার জন্য মনে হয় না ঠিক। তবে আমি আপনাকে যেটা বললাম, বাংলাদেশের স্বার্থটা দেখে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ দেখে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সব কিছু চিন্তা করে আপনার ওই সিদ্ধান্তটা নিতে হবে। যে কোনো কিছু আপনার সংলাপের মাধ্যমে যদি সমাধান হয়, তাহলে এর চেয়ে ভালো কোনো কিছু হয় না।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটা পেশাদার ক্রিকেটারদের আচ্ছন্ন করবে না বলেই মনে করেন তামিম, ‘প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা কেউই পছন্দ করে না। তবে খেলোয়াড়রা সবাই পেশাদার, আমি নিশ্চিত তারা তাদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

 বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সূত্রপাত মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায়। ভারতের উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মুখে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

এরপরই একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ও সংশ্লিষ্টদের কীভাবে নিরাপত্তা দেবে ভারত, এমন প্রশ্ন তুলে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে বিসিবি। মোস্তাফিজের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অবশ্য তামিম বলেছেন, ‘মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া অবশ্যই দুঃখজনক, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত