হবিগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ১ মুন্সীগঞ্জে ৫ জন টেঁটাবিদ্ধ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে দুপক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

লাখাইয়ের ফরিদপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম হিরাজ মিয়া (৫৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলাল মিয়া ও মুখলেছ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও জলমহালসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

গতকাল সকালে দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় হিরাজ মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

লাখাই থানার ওসি জাহিদুল হক জানান ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহত হিরাজ মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে পূর্ব বিরোধের জেরে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে কাশেম মোল্লা ও শুকুর মোল্লার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ শুকুর মোল্লা (৫৫), আলী আহমেদ (৩৫), মো. হোসেন (৩২), অন্তর (১৮) ও কামাল সাধুসহ (৪০) গুরুতর আহতদের ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত বেশ কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, দোসরপাড়া গ্রামের কাশেম মোল্লা ও শুকুর মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। মূলত জমি-সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন টেঁটাবিদ্ধ হন।

কাশেম মোল্লা ও শুকুর মোল্লার সঙ্গে কথা বলতে তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সিরাজদীখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দোসরপাড়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত