স্বতন্ত্র প্রার্থী কোটিপতি লেয়াকতের ব্যাংকে জমা মাত্র ১৪ হাজার টাকা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে নানা কারণে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. লেয়াকত আলী। বড় ধরনের শোডাউন, উচ্চকণ্ঠে বক্তৃতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ইত্যাদি নানা কারণে এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি ভোটের রেসে রয়েছেন তিনি।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হয়েও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার জমা আছে মাত্র ১৪ হাজার ১৫৭ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, সর্বশেষ প্রদত্ত আয়কর রিটার্নের তথ্যমতে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৯১ টাকা। আয়কর বছরে তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৩ টাকা।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, লেয়াকত আলীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৬ টাকা। আর দুটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১১ হাজার ৯৫৭ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। অন্য অস্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি মালিকানা কারবারের ব্যবসায়িক মূলধন ৮২ লাখ ২৯ হাজার ৫২৫ টাকা, ৩ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। অন্যদিকে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ হাজার ৮৫০ শতক কৃষিজমি।

লেয়াকত আলী তার আয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেনÑ বছরে কৃষি খাত থেকে আয় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০০, ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ ও শেয়ার থেকে আয় ১০ হাজার ১৯৩ টাকা। অন্যদিকে আয়কর হিসাব অনুযায়ী লেয়াকত আলীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৪১ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ টাকা। আয়কর বছর তার আয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৮৮৮ টাকা।

দল থেকে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০টি মামলা চলমান। এর মধ্যে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের মামলাও রয়েছে।

২০১৬ সালে বাঁশখালীর গ-ামারায় শিল্প গ্রুপ এস আলমের মালিকানাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে স্থানীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ কজন হতাহত হয়। ওই সময় গ-ামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী এলাকাবাসীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন। অবশ্য পরে এস আলম গ্রুপ লেয়াকত আলীকে পক্ষে টেন নেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে বাঁশখালী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন লেয়াকত আলী। কিন্তু দল থেকে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে লেয়াকত তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষিত হয় তার মনোনয়নপত্র। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন লেয়াকত আলী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত