প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন, উকিল নোটিস, কঠোর নির্দেশনা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (শুক্রবার) ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলা বাদে) একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখের বেশি প্রার্থী। শিক্ষক নিয়োগের এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নির্দেশনা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ব্লুটুথ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি রাখে স্থানীয় প্রশাসন। নিয়োগের নামে কোনো অসাধু চক্রের সঙ্গে লেনদেন না করতে প্রার্থীদের সতর্ক করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আগের দিন বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী উকিল নোটিস পাঠান। এদিকে গতকাল এ নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নওগাঁয় প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের নাগেশ^রীতে নিয়োগ পরীক্ষার উত্তর অসাধু উপায়ে সংগ্রহের অভিযোগ ছয়জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি আবেদন জমা পড়ে। সে হিসেবে প্রতিটি পদের বিপরীতে ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় বসেন। প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২ জানুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি সকালে নির্ধারণ হলেও পরে বিকেলে তা নির্ধারণ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
