ভাগ্যবানরা সাক্ষী হলেন স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফির

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর যে ট্রফিটায় পরম যত্নে চুমু এঁকে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি, সেই ট্রফিটাই কাল নির্বাচিত সহস্রাধিক ভাগ্যবানের জন্য প্রদর্শিত হলো ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। রীতি মেনে শেষ কবার কোকা-কোলার কল্যাণে ঢাকা ভ্রমণ করে ৬ কেজি ১৭৫ গ্রাম ওজনের সোনার শিরোপাটি। তবে আগের দুবারের মতো এবার পরম প্রার্থিত ট্রফি নিয়ে ফুটবলভক্তদের আকাশছোঁয়া উন্মাদনার সুযোগ ছিল না। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আয়োজকরা কেবল মাত্র শেষ কদিন পরিচালিত একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকিট বিজয়ীদের শিরোপা দেখার সুযোগ করে দেয়। রেডিসন ব্লু হোটেলে দুপুর দেড়টা থেকে কাচঘেরা বাক্সে রাখা শিরোপাটি দেখা ও এর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া প্রায় ১৩০০ টিকিট বিজয়ী। এছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন।

সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে বিশ্বকাপ ট্রফি বহন করা বিশেষ বিমান। সেখানে বাফুফে ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রফি বরণ করেন। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। শিরোপার সঙ্গী হয়ে আসেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য গিলবার্তো সিলভা।

বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রফি নিয়ে আসা হয় রেডিসনে। কোকা-কোলা সূত্রে জানা গেছে, ১২০০-১৪০০ ব্যক্তি ট্রফিটি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭০০জন কোকা-কোলার ট্রফি ক্যাম্পেইনের বিজয়ী। ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট দুই শতাধিক। ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যেই আবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিরোপার সান্নিধ্য পেয়ে অভিভূত জামাল ভুঁইয়া বলেন, ‘অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল সত্যি বললে। গিলবার্তো এসেছেন ট্রফির সঙ্গে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি দেখলাম। খুব ভালো লাগছে। আমি মনে করেছিলাম ট্রফি একটু ছোট, বাট এটা আসলে অনেক বড়। অলমোস্ট ৭ কেজি পিওর গোল্ড!’

জামালের ছোটবেলা কেটেছে ডেনমার্কে। তবে তিনি ব্রাজিলের ভক্ত। আসছে বিশ্বকাপে তাই এ দুদলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়েছেন। হৃদয় থেকে চেয়েছেন এ দুদলের একজনের হাতে উঠুক স্বপ্নের ট্রফি, ‘আমি ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলকে অনুসরণ করি। কারণ আমার ফার্স্ট ফেভারিট প্লেয়ার ছিল রোনালদো। ব্রাজিল শেষবার ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। সেই দলটার একজনের সঙ্গে আজ দেখা হলো। আমার কাছে ২০০২ ব্রাজিল দলটাই অনেক পছন্দের। তারা আবার শিরোপা জিতলে ভালো লাগবে। তবে আমি চাই ডেনমার্ক জিতুক। কারণ ডেনমার্কে আমার জন্ম-বেড়ে ওঠা। তবে ডেনমার্ক যদি না পারে, তবে অবশ্যই আমি চাই ব্রাজিল জিতুক।’

ঢাকায় প্রথমবারের মতো আসলেন ব্রাজিল তারকা গিলবার্তো সিলভা। যিনি একই সঙ্গে পরিচিত আর্সেনালের সর্বকালের সেরা দলের একজন হিসেবে। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল, বিশেষভাবে বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনার কথা আগেভাগেই জানা গিলবার্তোর। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। এটাই আমার এখানে প্রথম আসা। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ফিফার পক্ষ থেকে, প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, কোকা-কোলা এবং আমাদের আতিথেয়তা করার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এটা সত্যিই দারুণ একটি সময়। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের আসল ট্রফিটি এখানে নিয়ে আসতে পারা বাংলাদেশের জন্য খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।’

জামাল ছাড়াও মর্যাদার ট্রফির সান্নিধ্য নিতে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন, ‘আমার মতো তরুণ একজন ফুটবলার এত বড় একটি কাজের অংশ হতে পেরেছি এটা খুবই আনন্দের ও সৌভাগ্যের। এটা আমার জন্য অনুপ্রেরণা সামনে আরও ভালো ফুটবল খেলার।’

গত রাতেই ট্রফি বহনকারী চার্টার্ড বিমানটির দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল। বিশ্বের ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে মর্যাদার ট্রফি। ট্রফি ট্যুর শেষ হতে সময় লাগবে পুরো ১৫০ দিন। এই ট্রফিটাই ১৯ জুলাই তুলে দেওয়া হবে ফাইনাল বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে। ঢাকাবাসীর সে দিনটির অপেক্ষার পালা শুরু হয়ে গেল বুধবার থেকেই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত