চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন আসনটির জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। গত বুধবার দুপুরে আবেদনটি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নুরুল আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাইল গণি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল সরওয়ার আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াতের প্রার্থী যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। হলফনামায় কোনো তথ্যই আমি গোপন করিনি।’
জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী ইসমাইল গণি বলেন, ‘সরওয়ার আলমগীর সাহেবের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। কিন্তু তিনি হলফনামায় এর খুব সামান্য অংশ দেখিয়েছেন। অধিকাংশ তথ্যই গোপন করেছেন। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছি।’
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এনএফজেড টেরি টেক্সটাইল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ২০১ কোটি টাকা ঋণ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পরে খেলাপি মর্যাদার বিরুদ্ধে সরওয়ার আলমগীর উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। নির্বাচিত হওয়ার পর যদি কোনো প্রার্থীর ঋণখেলাপি থাকা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মেলে, তাহলে তার সাংসদ পদও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
