ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি  নিয়ে নিজ শিবিরেই বিভক্তি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে প্রাণহানি এবং সহিংস গ্রেপ্তার অভিযানের জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই এখন অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ৯৫ শতাংশ রিপাবলিকানের সমর্থন থাকলেও গত সপ্তাহে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের প্রশ্নে তারা একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে রেনে নিকোল গুড (৩৭) নামের এক নারী নিহতের ঘটনায় ট্রাম্পশিবিরে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী রিপাবলিকানদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন, গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের বল প্রয়োগ করা উচিত। তবে ৩৯ শতাংশ রিপাবলিকান ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, কর্মকর্তাদের উচিত মানুষের জীবন ও শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি কমানো। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এ বিষয়ে প্রায় এককাট্টা। দলটির ৯৬ শতাংশ সমর্থকই যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এখন ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রতি জনসমর্থন কমে ৪০ শতাংশে নেমেছে, গত ফেব্রুয়ারিতেও যা ছিল ৫০ শতাংশ। ট্রাম্পের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাও আগের চেয়ে কমে এখন ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করার ঘটনার পর উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিক্ষোভের মধ্যেই গত বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে গ্রেপ্তারের সময় তার পায়ে গুলি ছুড়েছেন এক ফেডারেল এজেন্ট। বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বরফের টুকরো নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ কার্যকরের মাধ্যমে মিনেসোটায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত